অনলাইনে পরীক্ষার ভালোমন্দ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৩২

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর পুরো শিক্ষাব্যবস্থা এক কঠিন সংকটের মুখোমুখি হয়। সেই সংকট মোকাবিলায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গত ১২ জুলাই থেকে অনলাইন পরীক্ষা শুরু করে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের

জন্য এটিই ছিল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম পরীক্ষা। সম্পূর্ণ পরীক্ষা অনলাইনে হওয়ায় তাদের অভিজ্ঞতাও এবার ভিন্ন রকমের। নতুনদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম পরীক্ষার অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতি জানার চেষ্টা করেছেন নোবিপ্রবি আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদুল ইসলাম

জীবন অভিজ্ঞতার বইয়ে

নতুন অধ্যায় যুক্ত

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় প্রথম পরীক্ষা দিতে পেরে জীবন-অভিজ্ঞতার বইয়ে একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো যাতে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মননশীলতার স্বাদ গ্রহণ, নতুন আঙ্গিকের প্রশ্নের সমাধানসহ নানামুখী অভিজ্ঞতার ছড়াছড়ি। পড়াশোনার মান যাচাই করতে প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। গতানুগতিক সশরীরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়া এবং অনলাইন ভিত্তিক পরীক্ষা হওয়াতে মানিয়ে নিতে কিছুটা কষ্ট হয়েছে। আগামী দিনে যদি এ রূপ অনলাইনভিত্তিক পরীক্ষার আয়োজন করা হয় তাহলে নির্দিষ্ট সময়ানুপাতে প্রশ্নের প্যাটার্ন করা উচিত যাতে এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই পরীক্ষার্থীরা উত্তর লিখে শেষ করতে পারে এমন পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত।

—আজমীর হোসাইন পিয়াস

১ম বর্ষ, অর্থনীতি বিভাগ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

অনলাইনে না হলে পরীক্ষাই

দিতে পারতাম না

 

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম পরীক্ষাটা যেমন আনন্দের ছিল তেমনি অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যম ছিল। যেহেতু পরীক্ষাটি অনলাইনে হয়েছিল তাই আমার কাছে অনলাইন পরীক্ষার বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ আমি দীর্ঘ ২১ দিন করোনায় আক্রান্ত ছিলাম। আর আক্রান্ত অবস্থায়ই আমাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়েছিল। যদি অনলাইনে পরীক্ষা না থাকত তাহলে হয়তো আমি পরীক্ষায় অংশগ্রহণই করতে পারতাম না। তাই অনলাইনে পরীক্ষাটা আমার কাছে যেমনি চ্যালেঞ্জিং তেমনি আশীর্বাদস্বরূপ। কিন্তু অনলাইন পরীক্ষা দিতে গিয়ে মাঝে মধ্যে কিছু জটিলতায় পড়তে হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে অনলাইন পরীক্ষা না নিলে হয়তো পিছিয়ে পড়তাম অনেক ক্ষেত্রে।

—তাজকিয়া আযহার লগ্ন

১ম বর্ষ, আইন বিভাগ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন

অভিজ্ঞতা

 

করোনা মহামারিতে পৃথিবীর প্রায় সব ক্ষেত্রই কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে। এর মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্র অন্যতম। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাবনার দ্বারও উন্মুক্ত হয়। ইউজিসির নির্দেশনায় অনলাইনে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা বাস্তবায়ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, যা চলমান সেশনজট থেকে পরিত্রাণ পেতে সহযোগিতা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষাটি সশরীরে না দিয়ে অনলাইনে দিতে হলো। অনলাইন পরীক্ষায় নেতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নেটওয়ার্ক বিভ্রাট। যারা গ্রামে বাস করে তাদের অনেককেই নেটওয়ার্কের সন্ধানে বাড়ির বাইরে খোলা আকাশেও পরীক্ষা দিতে হয়েছে।

—মো. রিয়াদুল ইসলাম

১ম বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ

 নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

অনলাইন পরীক্ষার অনুভূতিতে

ভালো, খারাপ দুটোই ছিল

 

অনেক দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রায় দেড় বছর পরে আমরা ১ম সেমিস্টারের পরীক্ষা দিতে পেরেছি। করোনা মহামারিতে থমকে যাওয়া সেমিস্টার গলার কাঁটার মতো আটকে ছিল, এখন পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে মনে হচ্ছে কাঁটা এবার গেল বুঝি! বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ১ম পরীক্ষা, ভালোই লেগেছে এটা ভেবে অবশেষে আমরাও পরীক্ষা দিচ্ছি যদিও অনলাইনে। অনলাইন পরীক্ষার অনুভূতিতে ভালো, খারাপ দুটোই ছিল। সময় খুব কম ছিল, পারা প্রশ্নগুলোও উত্তর দিতে কষ্ট। যদিও এই পদ্ধতি নেওয়া হয় যেন কেউ অসদুপায় গ্রহণ করতে না পারে। গতানুগতিক সশরীরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়া এবং অনলাইন-ভিত্তিক পরীক্ষা হওয়াতে মানিয়ে নিতে কিছুটা কষ্ট হয়েছে।

—সাকিবুন নাহার

১ম বর্ষ, ফার্মেসি বিভাগ,

 নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

শিক্ষকরা ছিলেন

শিক্ষার্থীবান্ধব

 

প্রথম দিকে একধরনের মানসিক চাপ কাজ করলেও পরবর্তীকালে আস্তে আস্তে ভালো লাগা শুরু করে এই ভেবে—আমাদের পরীক্ষা হচ্ছে। ইন্টারনেট এবং টেকনিক্যাল সমস্যা ছিল মানসিক প্রেসারের অন্যতম কারণ যেটা সরাসরি     পরীক্ষা হলে হয়তো থাকত না। শিক্ষকরা ছিলেন শিক্ষার্থীবান্ধব, কারো কোনো সমস্যা হলে সময় দিতেন কিংবা যে কোনোভাবেই সহযোগিতা করার চেষ্টা  করতেন। নেটওয়ার্ক এবং টেকনিক্যাল সমস্যা ছাড়া অনলাইন পরীক্ষা মোটেও খারাপ ছিল না। এই           করোনা মহামারিতে বসে থাকার চেয়ে এক ধাপ      এগিয়ে যাওয়া সত্যিই আমাদের জন্য এক দারুণ           সুযোগ ছিল।

—আজিজুল হাকিম

১ম বর্ষ, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট,

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।