ভারতের রাজনীতিতে দলবদল আর পদত্যাগের হাওয়া

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৩৫

বিশ্বপ্রবাহ ডেস্ক

 

ভারতের রাজনীতিতে দলবদল যেন একটি স্বাভাবিক রীতিতে পরিণত হয়েছে। বিগত কয়েক বছরে সেটা অনেক বেশি স্পষ্ট। প্রায় প্রতিটি লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক দল থেকে আরেক দলে নেতাদের ছুটতে দেখা যায়। যেমনটা দেখা গেছে সর্বশেষ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগেও। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে অনেক নেতাকর্মী যোগ দিয়েছিলেন কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিতে। যাদের ওপর ভর করে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল জয়ের পর আবার উলটো হাওয়া দেখা গেছে।

মাত্র মাস দেড়েকের ব্যবধানে বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফিরে আসেন মুকুল রায়। যিনি বিজেপির সর্ব-ভারতীয় সহসভাপতি ছিলেন। বিজেপির টিকিটে বিধায়কও হয়েছিলেন। তারপর বিজেপি থেকে ফিরেছেন আরো চার বিধায়ক। যারা বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। গত মে মাসে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। চার মাসের ব্যবধানে সেই সংখ্যা কমে এখন দাঁড়িয়েছে ৭১-এ।

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছেন মোদির ঘনিষ্ঠ সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। গত শনিবার তিনি হঠাত্ করেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। অথচ তিনিই ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ। তার যোগদানে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল আরো একক প্রভাবশালী দলে পরিণত হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শুধু দলবদল নয়, বিজেপি ও কংগ্রেসে চলছে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও। গত ছয় মাসে দলের চার জন মুখ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। সর্বশেষ গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিকে সরিয়ে দিয়েছে দলটি। দলের চাপে গত ১১ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন তিনি। পদত্যাগের পর তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব বদলায়। প্রধানমন্ত্রী মোদির নির্দেশনায় গুজরাটের উন্নয়নে কাজ করেছি। এখন রাজ্যের আরো উন্নয়নে নতুন শক্তি দরকার।

জৈন সম্প্রদায়ের নেতা রূপানি বিভিন্ন সময় সংগঠনের নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলেও তিনি কখনোই ‘জনপ্রিয়’ নেতা বলে পরিচিত ছিলেন না। গুজরাটে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা  আরএসএস অনেকদিন ধরেই একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল। সেখানেই উঠে এসেছিল রূপানির জনপ্রিয়তা হারানোর কথা। আরএসএস তাদের রিপোর্টে বলেছিল, মুখ্যমন্ত্রী পদে রূপানি থাকলে নির্বাচনে বিপর্যয় হতে পারে বিজেপির। তাই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তেই সরে যেতে হয়েছে তাকে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মাথায় রেখে গুজরাটের নতুন মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে ভূপেন্দ্র প্যাটেলকে। তাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ বেছে নিয়েছেন।

অন্যদিকে এখন ভারতের হাতে গোনা কয়েকটি রাজ্যে রয়েছে দেশটির সবচেয়ে পুরোনো দল কংগ্রেসের সরকার। এর মধ্যে পাঞ্জাব কংগ্রেসের অন্যতম শক্ত ঘাঁটিও। আগামী বছরের শুরুর দিকেই সেখানে বিধানসভা নির্বাচন হবে। কিন্তু হঠাত্ করেই সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার তিনি দলের নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন। পাঞ্জাবে কংগ্রেসে নভজ্যোত সিং সিধুর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে দলীয় বিবাদ প্রকট হয়। শনিবার পদত্যাগের পর অমরিন্দর সিং বলেন, ৫২ বছর ধরে রাজনীতি করছি। ভবিষ্যতের রাজনীতি সব সময় একটি বিকল্প। সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে রাজনৈতিক ভবিষ্যত্ স্থির করব। সময়, সুযোগ এলে আমি বিকল্পটি ব্যবহার করব। এ অবস্থায় অমরিন্দর দল ছাড়লে পাঞ্জাব কংগ্রেসের হাতছাড়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সেক্ষেত্রে লাভবান হতে পারে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপি কেন্দ্রের ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন রাজ্যেই ক্ষমতাসীন ও অন্যান্য বিরোধী দল থেকে নেতাদের ভাগিয়ে আনার অভিযোগ শুরু হয়। যাতে অনেক ক্ষেত্রেই বিজেপি সফল হয়েছে। আগামীতেও এমনটা দেখা যেতে পারে।