মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য নেতাদের মাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হয় -------আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪১

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বা আগ্রহী নেতাদের মাটি ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। তিনি বলেন, নেতা হতে হলে এলাকার মানুষকে ভালোবাসতে হয়, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ রেখে অর্পিত কাজ সম্পন্ন করাই প্রকৃত নেতার কাজ। 

গতকাল রবিবার পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা সদরে পৃথক দু’টি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, দেশ স্বাধীন হয়েছে দেশের মানুুষের ভাগ্য পরিবর্তনে পরিকল্পিত উন্নয়ন কাজ করার জন্য। আমরা কাউখালী-ভাণ্ডারিয়াসহ এ অঞ্চলে ৩৬ বছর ধরে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করি। এখানে একটাই রাজনীতির কথা আমরা বলে এসেছি, তা হলো সম্মিলিতভাবে              মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। আমরা যদি এক থাকি, আমাদের পিছনে যদি জনগণের সমর্থন থাকে, তাহলে আমাদের ন্যায্যহিস্যা দিতেই হবে। কেউ আমাদের বঞ্চিত করতে পারবে না। জনগণের ঐক্যই হচ্ছে আমাদের শক্তি।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বিগত বছরগুলোতে নতুন নতুন রাস্তাঘাট তৈরি করে কাউখালী-ভাণ্ডারিয়াকে জেলা শহর, বিভাগীয় শহর তথা রাজধানীর সঙ্গে সংযুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। আগে কাউখালীতে আসতে নৌ-পথই ছিল একমাত্র উপায়। এখন মানুষ সড়কপথে সর্বত্র যাতায়াত করে। এটাই উন্নয়নের পরিচায়ক। কাউখালীতে কলেজ ছিল, বিদ্যালয় ছিল। কলেজ সরকারিকরণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থ প্রতিবন্ধক হলেও উপজেলা সদরের দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আমরা সরকারিকরণ করেছি। সম্প্রতি কলেজটিও সরকারি হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের উত্সাহে নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য একটি মহিলা কলেজ স্থাপনে আমরা সমর্থ হয়েছি। যদিও কারও কারও ব্যক্তিস্বার্থের জন্য বা অহেতুক বাধার জন্য মহিলা কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে, কিন্তু আজ এক কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এই কলেজের একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ আমরা শুরু করতে সক্ষম হলাম। এই কাজের ভিওিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে স্থানীয় সকলে দলমত নির্বিশেষে উপস্থিত হতে পারলে ভালোই হতো। তারপরও আমরা আজকে এই কাজটি শুরু করলাম।

জেপি চেয়ারম্যান বলেন, এলাকার উন্নয়ন কাজের জন্য কারও না কারও দায়িত্ব নিতে হয়। ৩৬ বছর ধরে আমরা এই দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট আছি, যা  রাজনৈতিক বিভাজন, মতানৈক্য, ঝগড়া-বিবাদ ইত্যাদির ঊর্ধ্বে উঠে সম্পন্ন করেছি। দেশে একটা রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার রয়েছে। এলাকার উন্নয়নের জন্য সংসদ সদস্যের ভূমিকা রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত থাকে। যাকে অবহেলা, অবজ্ঞা বা অস্বীকার করা এক ধরণের ভ্রান্তি। এরূপ আচরণ মানুষের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে, মানুষ বঞ্চিত হয়।  

তিনি আরো বলেন, এই ভুলগুলোকে জয় করেই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রয়োজনে কাজ করতে হয়। আল্লাহতালা বলেছেন আমার কাছে চাও। তোমরা শ্রম করো, তোমরা নিজেরা কাজ করো। আল্লাহ আরও বলেছেন যারা নিজেরা নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায় না, আল্লাহ তার ভাগ্য পরিবর্তন করে না। জনগণের প্রয়োজনের কথা যদি আমাদেরকে জানানো না হয় তাহলে আমরা উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে সক্ষম হবো না। এরজন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমি ৩৫ বছর বয়সে মন্ত্রী হয়েছি। ৩৬ বছর সংসদে আছি। বিভিন্ন সময় ১৮ বছর মন্ত্রী হিসাবে সরকারে ছিলাম। আল্লাহ মানুষকে ক্ষমতা দেন তার ঈমান পরীক্ষার জন্য। আমরা মানুষের উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করি, জনগণ যদি এক থাকে তাহলে আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পায়, সংহত হয়। তাই আজ বলতে চাই, কাউখালীর উন্নয়নের ব্যাপারে সবাইকে কাজ করতে হবে এবং তা ঐক্যবদ্ধভাবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সদ্ব্যবহার করে, সত্ সাহসের সঙ্গে, সদিচ্ছা নিয়ে অতীতেও কাজ করেছি, আগামীতেও কাজ করতে চাই।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বিকালে কাউখালী মহিলা কলেজের চারতলা ভীত বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষ্যে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ অলক কর্মকার। এ সময় মঞ্চে ছিলেন কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. খালেদা খাতুন রেখা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহমেদ সুমন, আওয়ামী লীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পল্টন, উপজেলা জেপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম নসু, জেলা পরিষদের সদস্য প্রভাষক শাহাজাদী রেবেকা শাহীন চৈতী প্রমুখ। 

পাশাপাশি তিনি কাউখালী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দের সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ওপর মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ইউএনও মোছা. খালেদা খাতুন রেখা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় মঞ্চে ছিলেন গণপূর্ত অধিদপ্তর পিরোজপুর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম, কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহমেদ সুমন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস আক্তার হাদিয়া, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বনি আমীন ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আজিম শরীফ।

ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিয়ালকাঠির সিকদার মো. দেলোয়ার হোসেন, চিড়াপাড়ার মাহমুদ খান খোকন, সয়না-রঘুনাথপুরের এলিজা সাঈদ, সদরের মোস্তাফিজুর রহমান ও আমড়াজুড়ির জাহাঙ্গীর হোসেন।  

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম আব্দুস সহিদ ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পল্টন, উপজেলা জেপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম নসু প্রমুখ।

বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ: গতকাল কাউখালীতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি আরও যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেন, সেগুলো হলো: শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের তালুকদার হাট আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শন, আমড়াজুড়ি ফেরিঘাট সংলগ্ন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান কাজ পরিদর্শন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উপজেলা মত্স্য অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় উপজেলা পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ আয়োজিত বৃক্ষ রোপণ ও চারা বিতরণ। পৃথক এসব কর্মসূচিতে দোয়া ও মোনাজাতেও শরিক হন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।  

এছাড়া তিনি নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার চেক এবং দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঢেউ টিন ও চেক বিতরণ করেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের প্রণোদনা  কর্মসূচিতে পাটের বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কাউখালীতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপির সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেপির উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান মৃধা, যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, যুগ্ম আহ্বায়ক ও গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরী, জেপি উপজেলা সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু এবং জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন।