নিউ ইয়র্কে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মারামারি

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪৪

জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মুহূর্তে নিউ ইয়র্কের পথে, তার আগমনকে কেন্দ্র করে উত্সবমুখর বাঙালিপাড়া, ঠিক সেই মুহূর্তে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় উত্তাল বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস এলাকা। স্থানীয় সময় ২২ সেপ্টেম্বর শনিবার নেতৃত্বের কোন্দলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একাংশ এবং রাজনৈতিক রেষারেষিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনা সামাল দিতে নিউ ইয়র্ক পুলিশকে গলদঘর্ম হতে হয়েছে।

অন্যদিকে প্রবাসে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। বাংলাদেশি দুটি রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও দিন শেষে বদনাম হয়েছে বাংলাদেশের—এমন মন্তব্য করেছেন সাধারণ প্রবাসীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দিনের প্রথম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে বিকাল ৪টার দিকে বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি সেন্টারে। এদিন সেখানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সংবাদ সম্মেলন শুরুর ঠিক মুহূর্তে অনুষ্ঠানের কর্তৃত্ব নিয়ে দরুদ মিয়া             রনেল ও কায়কোবাদ খানের মধ্যে তুমুল বাদানুবাদ হয়। তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়েছে। সাংবাদিকদের সামনেই এ ঘটনা চলে বেশ কিছুক্ষণ।

সন্ধ্যায় ডাইভারসিটি প্লাজায় নিউ ইয়র্ক স্টেট বিএনপির ব্যানারে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেখানে তাদের সমাবেশে বাধা দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে বাদানুবাদ হলেও বড় কোনো অঘটন ঘটেনি।

এদিকে রাত ১০টার দিকে জ্যাকসন হাইটসে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ ৭৩ স্ট্রিটে একটি অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করলে অদূরে ৩৭ অ্যাভিনিউতে একটি অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। কিন্তু বিএনপির অফিস স্থাপন নিয়ে দেখা দেয় বিপত্তি। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা অফিস স্থাপনে বাধা দিলে শুরু হয় তুমুল মারামারি। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় চলতে থাকে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি। এ সময় উভয় পক্ষের বেশ কয়েক জন আহত হন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই পক্ষের মাঝে অবস্থান নেয়। পরে প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের উত্তেজনা। পরে পুলিশ দুই পক্ষকে এলাকা ত্যাগে বাধ্য করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।