পিরোজপুরে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এহসান গ্রুপের বিরুদ্ধে দায়ের করা পাঁচটি মামলা সিআইডি তদন্ত করবে। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে এহসান গ্রুপের এমডি রাগীব আহসানসহ তার তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা এ পাঁচটি মামলার তদন্তভার গতকাল রবিবার পিরোজপুর সদর থানা থেকে সিআইডির পিরোজপুর শাখায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা আজাদ হোসেন ইত্তেফাককে জানান, এহসান গ্রুপের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা সিআইডি তদন্ত করবে। পুলিশের সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে।
প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকদের কয়েক হাজার টাকা আত্মসাত্ করার অভিযোগে পিরোজপুরে এহসান গ্রুপের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা বাদী হয়ে এসব মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রাহকদের টাকা আত্মসাত্ করে গা ঢাকা দেওয়ায় এহসান গ্রুপের এমডি মুফতি মাওলানা রাগীব আহসান ও তার তিন ভাইকে ঢাকা থেকে র্যাব ও পিরোজপুর থেকে সদর থানার পুলিশ গত ৯ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত এহসান গ্রুপের এমডি মুফতি মাওলানা রাগীব আহসান ছাড়াও অন্য তিন ভাই হলো প্রতিষ্ঠানের সহপরিচালক আবুল বাশার, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান ও মো. খাইরুল ইসলাম।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত একটি মামলায় এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীব আহসানসহ আটক তার অন্য তিন ভাইকে সদর থানার পুলিশ আদালতের নির্দেশে সাত দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। গত ১৩ সেপ্টেম্বর তাদের রিমান্ডে নেয় পিরোজপুর সদর থানার পুলিশ। এ সময় এই চার ভাই পুলিশের কাছে কখনো দেড় শ কোটি টাকা আবার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করে। অন্যদিকে ঢাকায় র্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর রাগীব আহসান ২১০ কোটি টাকা আত্মসাতের কথা বলে। পাশাপাশি ১৭ হাজার কোটি টাকা এহসান গ্রুপ গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে বলে লোকজন বলাবলি করছিল। এহসান গ্রুপ হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে কত হাজার টাকা আত্মসাত্ করেছে তার সঠিক পরিমাণ নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের তদন্তকালে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে সদর থানার বদলে সিআইডিকে তদন্তভার দেওয়া হলো।
এর আগে পিরোজপুর সদর থানার ওসি আ. জ. মো. মাসুদুজ্জামান জানান, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় রাগীব আহসান ও তার তিন ভাইকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করলে বিজ্ঞ আদালত সাত দিনেরই রিমান্ড মঞ্জুর করে। তাদের পিরোজপুর সদর থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে রাগীব আহসান এহসান গ্রুপের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১৪৫ থেকে ১৫০ কোটি টাকা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
