মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত সাত শিশু সহ মোট দশ জন বেসামরিক নাগরিকের হত্যার দায় স্বীকার করে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এবার তারা মৃতদের পরিবারের প্রতি সাহায্যের হাত বড়ানোর কথা ঘোষণা করল। পেন্টাগন সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত এখনও কিছু জানা যায়নি।
গত মাসে সন্ত্রাসবাদ রুখতে কাবুলে ড্রোন হামলা চালায় আমেরিকা। কিন্তু সেই ড্রোন হামলায় সন্ত্রাস দমনের বদলে মৃত্যু হয়েছিল বহু আফগান নাগরিকের। শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কম্যান্ডের প্রধান জেনারেল কেনেথ ফ্রাঙ্ক ম্যাকেঞ্জি জানান, কাবুল বিমানবন্দরে উদ্ধারকার্য চালানোর সময় মার্কিন সেনার উপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। পাল্টা জবাব দেয় মার্কিন সেনা। তারা ড্রোন হামলা চালায়। কিন্তু তাদের এই ড্রোন হামলার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। যার জন্য ম্যাকেঞ্জি ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন। গত মাসে মার্কিন ড্রোন হামলায় সাতটি শিশুসহ মোট ১০ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেছে আমেরিকার সেনাবাহিনীও। এবার তাঁদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও চিন্তা করছে পেন্টাগন।

মার্কিন সেনাবাহিনী ওই ঘটনাকে ‘ট্রাজেক মিসটেক’ বা ভয়াবহ ভুল বলে অভিহিত করেছে। উল্লেখ্য, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আগে ২৯ শে আগস্ট আইএসের আত্মঘাতী বোমারুদের টার্গেট করে ওই হামলা চালানো হয়েছিল। এসব হামলাকারী কাবুল বিমানবন্দরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনীর জন্য আসন্ন হুমকি ছিল। তাই তাদেরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়।
আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মেরিন করপোরাল জেনারেল ফ্রাঙ্ক ম্যাকেঞ্জি বলেছেন, ‘বিমানবন্দরে ওই গ্রুপটি হুমকি হয়ে উঠেছিল। তাই আস্থার সঙ্গে তাদেরকে বিরত রাখতে হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু আমাদের অনুসন্ধান এখন বলছে, হামলাটি চালানো হয়েছিল ভয়াবহ ভুলভাবে।’
তিনি মনে করেন, ওই হামলায় যারা মারা গিয়েছেন, তারা আইএসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত আইসিস-খোরাসানের কোনও সদস্য ছিলেন না। এমনকি তাঁরা মার্কিন সেনাদের প্রতি কোনো হুমকিও ছিলেন না। এ জন্য তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে পেন্টাগন। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানের বাইরে অবস্থানরত ড্রোন ব্যবহার করে ওই হামলা চালানো হয়েছিল। এতে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুতে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমেরিকার ভবিষ্যত হামলার বিষয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং আফগানিস্তানের মিত্রদের মধ্যে উদ্ধার অভিযান নিয়ে আরও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে, এই ড্রোন হামলা নিয়ে এমনিতেই কড়া সমালোচনার মুখে রয়েছে বাইডেন প্রশাসন। আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেছেন, ‘ওই ড্রোন হামলায় আহমাদি নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি অলাভজনক নিউট্রিশন অ্যান্ড এডুকেশন ইন্টারন্যাশনালে কর্মরত ছিলেন। আমরা এখন জানতে পারছি মিস্টার আহমাদি এবং আইসিস-খোরাসানের মধ্যে কোনও যোগসূত্র ছিল না। ওই দিন তার কর্মকাণ্ড মোটেও ক্ষতিকর ছিল না। এমনকি আমরা যে অত্যাসন্ন হুমকির কথা মনে করেছিলাম, তিনি তাও ছিলেন না। এ জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এবং এই ভয়াবহ ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার অঙ্গীকার করছি।’

কোনও সামরিক হামলায় বেসামরিক মানুষ মারা যাওয়ায় আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা পেন্টাগণের শীর্ষ কর্মকর্তা বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এভাবে ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করা বিরল ঘটনা। ওই হামলার পর পরই রিপোর্ট প্রকাশ হয় যে, ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে কাবুলের পশ্চিমে হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায়। এতে শিশুসহ বেসামরিক লোকজন নিহত হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ভবনের চারপাশে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ওই সময় তালেবান মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘এই হামলায় কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করছে তালেবানরা।’
ইত্তেফাক/এফএস
