২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভূগোল

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৩৩

ভূগোল

মো. মঞ্জুর হোসেন, সিনিয়র শিক্ষক

হাতীবান্ধা এস. এস. সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ং

হাতীবান্ধা, লালমনিরহাট

 

উদ্দীপক

শরতের মেঘমুক্ত রাতের আকাশে রাগিব বাসার ছাদে বসে আকাশে বিভিন্ন আলোর খেলা দেখছিল। সে লক্ষ করল কতকগুলো আলোকবিন্দু মিট মিট করে জ্বলছে। কোনোটি আবার স্থির হয়ে জ্বল জ্বল করছে। এতে রাগিবের কৌতূহল বেড়ে গেল। সে লক্ষ করল মহাকাশের উত্তর-দক্ষিণ বরাবর সাদা আলোর দীর্ঘ একটি রাস্তা। হঠাত্ তার মনে হলো যেন একটি তারা তার দিকে ছুটে আসছে।

 

ক. সূর্যের নিকটতম নক্ষত্রের নাম কী?

খ. পৃথিবীকে সৌরজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ বলা হয় কেন?

গ. রাগিবের দেখা মিট মিট করে জ্বলতে থাকা আলোগুলো আসলে কী?  ব্যাখ্যা করো।

ঘ. মহাকাশের উত্তর-দক্ষিণ বরাবর সাদা আলোর দীর্ঘ পথ ও ফুটন্ত তারার বিষয় গুলোর মধ্যকার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

প্রশ্নের উত্তর

ক.  সূর্যের নিকটতম নক্ষত্রের নাম প্রক্সিমা সেনেটারাই (Proxima Centauri) ।

খ. পৃথিবী মানুষের বাসভূমি। পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুুমণ্ডলে প্রয়োজনীয়  অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রছে যা উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী।

সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে। এ কারণে পৃথিবীকে সৌরজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ বলা হয়।

গ. রাগিবের দেখা মিট মিট করে জ্বলতে থাকা আলোগুলো আসলে কোনো নক্ষত্র নয়। এটি শুক্র গ্রহ।

মহাকর্ষ বলের প্রভাবে মহাকাশে কতকগুলো জ্যোতিষ্ক সূর্যের চারদিকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত পথে পরিক্রমণ করে। এদের নিজেদের কোনো আলো বা তাপ নেই। এরা সূর্য থেকে আলো ও তাপ পায় এবং এ তাপেই উত্তপ্ত হয়। এসব জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলে। শুক্র তেমনি একটি গ্রহ।

 শুক্র গ্রহটি ঘন মেঘের অন্তরালে ঢাকা। তাই এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে  কখনই দেখা যায় না। কারণ এর নিজস্ব আলো বা তাপ নেই। এটি  নক্ষত্রের মতো বিরাট অগ্নিপিণ্ডও নয়। তবে দূরত্বের দিক দিয়ে শুক্র পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ বিধায় পৃথিবী থেকে শুক্র গ্রহকে নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করতে দেখায়।

ঘ. মহাকাশে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর সাদা আলোর দীর্ঘপথের মতো যা দেখা যায় তা মূলত ছায়াপথ এবং ছুটন্ত তারাটি হলো উল্কা।

শীতকালে রাত্রিবেলা পরিষ্কার আকাশে লক্ষ করলে উত্তর-দক্ষিণে বেশ বড় পরিসরযুক্ত তেজোদীপ্ত স্বচ্ছ দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যায়। তারকা খচিত এই আলোর পথই হলো ছায়াপথ। অন্ধকার আকাশে এদের উজ্জ্বল দীপ্তি দীর্ঘপথের মতো দেখায়। অপরদিকে, মহাশূন্যে অজস্র জড়পিণ্ড ভেসে বেড়ায়। এই জড় পিণ্ডগুলো অভিকর্ষ বলের আকর্ষণে প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে। বায়ুর সংস্পর্শে এসে বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণের  ফলে এরা জ্বলে ওঠে। ফলে এদের ছুটন্ত তারা বলে মনে হয়।

উদ্দীপক

সালমা রাতের আকাশে দৃশ্যমান সকল জ্যোতিষ্ককেই তারা মনে করে। আবার সন্ধ্যাকালে উদীয়মান তারার মতো দেখতে জ্যোতিষ্কই যে একটি গ্রহ তা সে বিশ্বাস করতে চায় না।

ক. গ্যালাক্সি কাকে বলে?

খ. হ্যালির ধূমকেতু প্রতিবছর দেখা যায় না কেন?

গ. সালমার দৃশ্যমান জ্যোতিষ্কটির নিজ  অক্ষে আবর্তনের ফলাফল ব্যাখ্যা কর।

ঘ. সালমার দেখা জ্যোতিষ্কটি কি পৃথিবীর মতো একটি আদর্শ গ্রহ, তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

প্রশ্নের উত্তর

ক. মহাকাশে কোটি কোটি নক্ষত্র, গ্রহ, ধূলিকণা, ধূমকেতু এবং বিশাল বাষ্পকুণ্ড নিয়ে জ্যোতিষ্কমণ্ডলীর যে দল সৃষ্টি হয়েছে তাকে গ্যালাক্সি বলে।

 

খ. ধূমকেতু অনেক দীর্ঘ কক্ষপথে সূর্যকে পরিক্রমণ করে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর আবির্ভূত হয়। দীর্ঘ পরিক্রমণ পথের কারণে প্রতিবছর হ্যালির ধূমকেতু দেখা যায় না।

অ্যাডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তার নামানুসারে এ ধূমকেতুর নাম হ্যালির ধূমকেতু। হ্যালির ধূমকেতু ৭৬ বছর পর পর দেখা যায়। এটি ২৪০ খ্রিস্টপূর্ব অব্দ থেকে দেখা যায় এবং সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গেছে।

গ. সালমা মহাকাশে নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ, ধূমকেতু, ছায়াপথ, উল্কা, পালসার, কৃষ্ণবামন, কৃষ্ণগহ্বর ইত্যাদিকে বলা হয় জ্যোতিষ্ক। এসব  জ্যোতিষ্ক মহাকর্ষ বলের প্রভাবে সূর্যের চারদিকে নির্দিষ্ট পথে পরিভ্রমণ করে। এদের নিজেদের কোনো আলো বা তাপ নেই। এরা সূর্য থেকে আলো ও তাপ পায়। এই তাপেই এরা উত্তপ্ত হয়। এরা তারার মতো  মিটমিট করে জ্বলে না। এসব জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলে।

সালমা দৃশ্যমান জ্যোতিষ্ক ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা। আসলে এটি কোনো তারা নয়। শুক্র গ্রহই ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা। নক্ষত্রের মতো  জ্বলজ্বল করে বলেই সে একে ভুল করে তারা বলে। কিন্তু এটি আসলে একটি গ্রহ, তা হচ্ছে শুক্র। এ গ্রহটি ঘন মেঘে ঢাকা। এটি সৌরজগতের সবচেয় উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ। এটি পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ। শুক্রে দিন ও রাতের মধ্যে আলোর বিশেষ তারতম্য হয় না।

ঘ. সালমার দেখা শুক্র পৃথিবী গ্রহের মতো আদর্শ নয় । পৃথিবীর মোট আয়তনের শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ পানি। পৃথিবী একমাত্র গ্রহ, যার বায়ুুমণ্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে এবং  গ্রহটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী। পৃথিবীর উপরিভাগে মাটি ও পানির উপস্থিতি প্রাণিকূলের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।

অপরদিকে, শুক্র গ্রহটি সৌরজগতের সবচেয়ে  উত্তপ্ত গ্রহ। এ গ্রহটি ঘন মেঘে ঢাকা থাকে বলে এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনোই দেখা যায় না। শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইডের তৈরি। এছাড়াও এখানে এসিড বৃষ্টি হয় । সুতরাং বলা যায়, পৃথিবীই কেবল সৌরজগতে আদর্শ গ্রহ।