বর্ষা মৌসুমে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা
দোহার- নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা
দোহারে বটিয়া ও নুরপুর গুরুত্বপূর্ণ খালের ওপর যথাযথ উচ্চতা না রেখে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এলজিইডির অর্থায়নে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। পদ্মা নদী হয়ে এ খালটি জয়পাড়া হয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলার সাদাপুর হয়ে ইছামতি নদীতে মিশেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এ খালের ওপর অপরিকল্পিতভাবে যে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে বর্ষা মৌসমে এর নিচ দিয়ে নৌযান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। সরেজমিনে দেখা যায়, বটিয়া ও নুরপুর খালের ওপর নির্মাণ করা সেতুটির দুই পাশের গার্ডার বসানোর কাজ শেষ পর্যায়। এর মধ্যে বর্ষা মৌসুমে খালের পানিতে সেতুর দুই অংশের গার্ডারের নিচের সঙ্গে ছুঁইছুঁই পানি। মাঝের অংশের গার্ডার বসানোর আগেই দেখা দিয়েছে নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা। অপরিকল্পিতভাবে সেতুর পুরো অংশের কাজ শেষ হলে বর্ষার ভরা মৌসুমে সেতুর নিচ দিয়ে নৌযান চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা দক্ষিণের সব চেয়ে বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র দোহারে জয়পাড়া ঐতিহ্যবাহী হাট ও বাজার। এ হাটে ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এই খালের ওপর দিয়ে গবাদি পশু ও বিভিন্ন পণ্য ট্রলারযোগে নৌপথে পরিবহন করে থাকে। সচল এ নদীপথে সঠিক নিয়ম না মেনে সেতু নির্মাণ করা মানে উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।
জয়পাড়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার মাঝি বলেন, তিনি সেতুর পক্ষে তবে এটি পরিকল্পিতভাবে না হলে নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে এবং জয়পাড়া হাট ও বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন বলেন, সেতু নির্মাণের বিপক্ষে তারা কেউ না, উচ্চতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। সঠিক উচ্চতায় সেতু নির্মাণ হলে বর্ষাকালে নৌ চলাচল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়ে নির্বিঘ্নে এ নদীপথে ব্যবসায়ীরা মালামাল পরিবহন করতে পারবে।
এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জ্যোতি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শেখ সালাউদ্দিন বলেন, কাগজপত্রে যেভাবে আছে তারা সেভাবেই কাজ করছে। সেতুর প্রায় ৭৫ ভাগ কাজ শেষ পর্যায়ে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকা বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আইনুল হক বলেন, সেতুর বিষয়ে দোহার উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সেতুর নমুনা পাঠাবেন খুব শিগিগরই। উপজেলা প্রকৌশলী মো. হানিফ মোর্শেদী বলেন, পরিকল্পিতভাবেই সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
