তিন বছর পর ক্লুলেস খুনের রহস্য ‘উদঘাটন’

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:১০

চাকরি খুঁজতে এসে যুবক খুন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রাজধানীর কদমতলী এলাকায় ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর সংঘটিত রাসেল হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রাসেল হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান আসামি সজল ওরফে পিচ্চি সজল ও হোসেন বাবু ওরফে হুন্ডা বাবুকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য জানিয়েছে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। গ্রেপ্তারকৃত সজল বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের আমতলী এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে। আর হুন্ডা বাবু রাজধানীর শ্যামপুর থানাধীন ফরিদাবাদ এলাকার আইজিগেট ব্যাংক কলোনির মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে।

পিবিআই জানিয়েছে, রাসেল তার গ্রামের বাড়িতে কৃষি কাজ করতেন। মায়ের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে ২০১৫ সালের গত ২৭ সেপ্টেম্বর চাকরির খোঁজে ঢাকায় আসেন। মোবাইল ফোনে ছেলের দুঃসংবাদ পেয়ে রাসেলের মা ঢাকায় আসার পর স্থানীয় সূত্রে জানতে পারেন, কদমতলী থানাধীন বড়ইতলা মোড়ে অজ্ঞাতদের ছুরিকাঘাতে রাসেল মারা গেছে। কদমতলী থানা পুলিশ সুরতহাল শেষে মরদেহ মর্গে পাঠায়। ওই ঘটনায় মা রাশিলা বেগম অজ্ঞাতদের পরিচয় দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন।

 থানা পুলিশ তদন্ত শেষে ঘটনাটি পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলেও কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তা উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে ২০১৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। তবে খুনের রহস্য উদঘাটিত না হওয়ায় চূড়ান্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে ভিকটিমের মা আদালতে না রাজির আবেদন করেন। পরে আদালতের আদেশে পিবিআই, ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) এসআই আল-আমিন শেখ মামলাটির তদন্ত শুরু করেন।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার আমতলী এলাকা থেকে সজল ওরফে পিচ্চি সজলকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যে ওইদিন রাতে রাসেল হত্যায় জড়িত আরেক আসামি হোসেন বাবু ওরফে হুন্ডা বাবুকে শ্যামপুর থানাধীন আইজিগেট ব্যাংক কলোনি হতে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই জানতে পারে, নিহত রাসেলের বাড়ি খুলনা জেলার রূপসা থানা এলাকায়। গ্রেপ্তার সজলও একই গ্রামে বিয়ে করে। সেই সুবাদে উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সজল বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি হওয়ায় প্রায়ই রাসেলের বাসায় রাতযাপন করত। রাসেলকে টায়ারের ফ্যাক্টরিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসে সজল। তবে চাকরি দিতে না পারায় তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়।

পিচ্চি সজলের পরিচিত পিংকি ও পারভেজ শ্যামপুর থানা এলাকার মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। পিংকি ও পারভেজের মধ্যে এলাকার মাদক ব্যবসার প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত্ বিরোধ চলছিল। বিরোধের জের ধরে মাদক সম্রাজ্ঞী পিংকি পারভেজকে খুন করার জন্য বাবু ওরফে হুন্ডা বাবু ও পিচ্ছি সজলদের ভাড়া করে। পারভেজকে খুন করার উদ্দেশ্যে সু-কৌশলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটনার রাতে পিচ্ছি সজল, হুন্ডা বাবু, জুয়েল, আল-আমিন একত্রিত হয় কদমতলী থানাধীন বড়ইতলা মোড়ে।

মনোমালিন্যের শোধ নিতে সেখানে পিচ্ছি সজল কৌশলে রাসেলকেও নিয়ে আসে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ইয়াবা সেবন শেষে চাকু দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে পারভেজ ও রাসেলকে আঘাত করে পিচ্ছি সজল, হুন্ডা বাবু, জুয়েল, আল-আমিন পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় পারভেজ ও রাসেলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাসেল মারা যায়। আটক পিচ্চি সজল ও হুন্ডা বাবুর বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, হত্যা চেষ্টা ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগী আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানানো হয়।