প্রতিবন্ধিতা বাধা হতে পারেনি পরিষ্কার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৯:৩৩

>> মোহাম্মদ অংকন

 

অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় মনোবল থাকলে শারীরিক সমস্যা কোনো বাধা হতে পারে না— এমন কথা আমরা মুখে বললেও বাস্তবে তা কতটুকু ফলপ্রসু, কেউ ভেবে দেখেছেন? একজন বৃদ্ধ রাস্তা পারাপার হতে না পারলে আপনি সুস্থ মানুষ হয়েও হাত ধরে তাকে পার করে দেন কি? সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ হওয়ার পরেও হাতে থাকা ময়লা রাস্তাঘাটে ফেলে দেন। ভেবেছেন কখনও, এসব কারা পরিষ্কার করে? হয়তো বলবেন, শহরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। সবখানে কি আর তারা আছেন? হয়তো নেই। কিন্তু এমন কেউ আছেন যিনি কি-না স্বেচ্ছায় শহর পরিষ্কার রাখতে চান!  তেমনই একজনের নাম মাহফুজুর রহমান। নাটোর জেলার অন্তর্গত ঠাকুর লক্ষীকোল গ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৯৬ সালে। মাহফুজের বয়স যখন ৬ মাস, তখন ভুল চিকিত্সার কারণে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে যান। স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা থেকে বঞ্চিত হন। বাবার চাকরির সুবাদে শৈশবে পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রাম চলে যান  মাহফুজ। শুধু বই পড়ার মধ্যে নিজেকে আটকে না রেখে, মনের ভেতর জাগে পত্রিকা পড়ার নেশা। ইচ্ছে জাগে সাংবাদিক হওয়ার। হঠাত্ বাবার চাকরিটা চলে যায়। চট্টগ্রাম থেকে ২০১৬ সালে মাহফুজ ফিরে এসে নাটোর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি গড়ে তুলেন ‘সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। বর্তমানে সংগঠনটির নাম দিয়েছেন ‘পায়রা’। এর মাধ্যমে তিনি পথেরর পাশে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিতে থাকেন। গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করতে থাকেন।  বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করেন। সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নেন। এসব দেখে এলাকার মানুষজন একটু অবাক হন এমনটি ভেবে—শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও মাহফুজ কীভাবে এসব করছেন! এক পর্যায়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কথা ভুলে গিয়ে তিনি প্রাণের শহর নাটোরকে পরিচ্ছন্ন করতে নেমে পড়েন। মাহফুজের এলাকায় গেলে দেখা যায়— শারীরিক দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি পথে পড়ে থাকা চিপসের প্যাকেট, সিগারেটের প্যাকেট, পলিথিন, ছেঁড়া জুতা, ওষুধের প্যাকেট পরিষ্কার করছেন। শুধু তাই নয়, এসব নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে, মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে ডাস্টবিনও বানিয়ে দিয়েছেন তিনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি কাউকে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার যে সাহস দেয় মাহফুজ তারই প্রমাণ।