আশেক খান আলেখীন
কথায় বলে, ‘অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভাল নয়’। জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে সেই কথার যথার্থতা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি। একই কথা প্রযোজ্য আমাদের এই প্রিয় পৃথিবীকে মানুষ তার নিজ প্রয়োজনে কতটা ব্যবহার করছে, তার ক্ষেত্রেও। পৃথিবীর স্থলভাগের অতি ব্যবহার এই গ্রহটির জন্য সংকট ডেকে আনতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘গ্লোবাল চেঞ্জ বায়োলজি’র প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর স্থলভাগের অর্ধেকেরও বেশি অংশ আজ বিপন্ন। মানব বসতির ক্রমাগত বিস্তার, কৃষিকাজ, শিল্পায়ন ও খনি স্থাপনসহ নানা ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষ এই পৃথিবীর মাটির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যকে নষ্ট করে ফেলছে যার প্রভাবে জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটছে। গবেষকরা বলছেন, পৃথিবীর স্থলভাগের মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে এখনো মানুষের হাত পড়েনি, অর্থাত্ সেই জমিগুলোর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এখনো অটুট আছে। তবে মানুষের সর্বনাশা থাবা থেকে সেই জমিও রক্ষা পাবে কিনা কে জানে।
গবেষণা প্রতিবেদনের লেখকদের একজন, দ্য ন্যাচার কনজারভেন্সির সিনিয়র সাইন্টিস্ট ক্রিস্টিনা কেনেডি বলেছেন, জমিতে উন্নয়নমূলক অতিরিক্ত কর্মকাণ্ডের কারণে নানা ধরনের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। মানুষ স্থলভাগের একটা বড় অংশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে পাল্টে দেওয়ার কারণেই এই বিপদ দেখা দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আরো নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে আমাদের। তিনি বলেন, প্রকৃতি এতদিন আমাদের যে সব সেবা দিয়ে আসছিল তা ধীরে ধীরে কমে আসবে। ফুলের পরাগায়ন প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হওয়ার কারণে বিশ্বে খাদ্য শস্যের উত্পাদন হ্রাস পাবে, বিশুদ্ধ পানির সংকট দিন দিন তীব্রতর হবে, বন্যার মাত্রাও বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনসারভেশন অফ ন্যাচার- এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বের ৫৭ শতাংশ প্রাকৃতিক অঞ্চল, যেমন- বন, তৃণভূমি, মরুভূমির অবস্থা এখন অত্যন্ত বিপন্ন। প্রতিবেদনে বনজঙ্গল রক্ষার পাশাপাশি বন ও নগরের মাঝামাঝি এলাকাগুলোর নিরাপত্তার প্রতিও গুরুত্ব আরোপ করা হয়। কারণ পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে ওই ধরনের ভূমির ওপর চাপ বাড়ছে। প্রতিবেদনে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবেশের ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে আনতে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জমির যথেচ্ছ ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ ও জমির যথাযথ ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সূত্র: আল জাজিরা
