মেট্রোরেলের মালামাল চুরিতে একাধিক চক্র

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩১

বিদ্যুত্স্পৃষ্টে নিহত চোরের

পরিচয় মিলেছে

বিশেষ প্রতিনিধি

রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর মো. নাজমুল নামে এক তরুণের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়ে মেট্রোরেল প্রকল্প থেকে মালামাল চুরির তথ্য পেয়েছে র্যাব। তদন্তে র্যাব জানতে পেরেছে, তুরাগ এলাকা থেকে বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় ঐ তরুণ। গত কয়েক বছর ধরে ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রকল্পগুলো চলাকালে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ সাধারণত খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়। একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র কৌশলে সেই মালামাল চুরি করত।

তিনি বলেন, নিহত নাজমুলও এ চক্রের সদস্য। চক্রটির আরো দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। গতকাল সকাল সোয়া ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র?্যাব-৪-এর একটি দল পল্লবী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো—আশিক ও হারুন।

এ সময় তাদের কাছ থেকে চোরাই মালামালসহ একটি পিকআপ ও সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুলের মৃত্যু ও প্রকল্পের মালামাল চুরি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল র?্যাব-৪-এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর নাজমুল তার মিরপুরের বাসা থেকে কাজের সন্ধানে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়ারি করা হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর জানা যায়, তুরাগ থানা এলাকায় একটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি নাজমুলের বলে তার বাবা শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তুরাগ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। এর পরই র্যাবের একটি দল ছায়াতদন্ত শুরু করে।

 গ্রেফতারকৃত দুই জন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাবকে জানায়, নিহত নাজমুল ও তারা দুই জন (আশিক ও হারুন) রাসেল এবং শামীম নামের আরো দুই জনের সঙ্গে মিলে চোরাকারবার করত। গত ৬ সেপ্টেম্বর রাসেল ও শামীম বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় নাজমুলকে। ঐ রাতে আশিকও তাদের সঙ্গে চুরির কাজে যোগ দেয়। যদিও সেদিন তাদের সঙ্গে ছিল না হারুন। তুরাগে বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুত্স্পৃষ্টে ঘটনাস্থলেই নাজমুলের মৃত্যু হয়।