কাজে আসছে না বটখালী খালের স্লুইসগেট

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩১

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বারবার ভাঙনে ময়মনসিংহের ফুলপুরে বটখালী খালের স্লুইসগেটটি কোনো উপকারে আসছে না এলাকাবাসীর। উলটো সাত বছরের বিভিন্ন সময় ভাঙনে একটি খাল তিনটিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার ফুলপুর ইউনিয়ন ও আশপাশ এলাকাকে বন্যা মুক্ত রাখার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরাধীন পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৩ সালে জাইকার অর্থায়ন ও এলজিইডির বাস্তবায়নে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দে বাখাই-বাঁশতলা সড়কের বাতিকুড়া গ্রামের বটখালী খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জায়গায় ২৭ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজসহ স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়। এতে উজান থেকে পানি প্রবেশের জায়গায় বাঁধ নির্মাণ না করে উলটো পানি বের হওয়ার পথে মাত্র পাঁচ-ছয় ফুট দৈর্ঘ্য প্রস্থের চারটি গেট রাখা হয়। ফলে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর পরই ২০১৫ সালে নাকানন্দি ও কুড়িয়া নদীসহ উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানি এসব স্লুইসগেটের ছিদ্র দিয়ে বের হওয়ার সংকুলন না হয়ে এলাকায় ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে সড়ক একাধিকবার ভেঙে পানি বের হয়ে অন্য একটি খালের সৃষ্টি করে।

তারা আরো জানায়, আগে বাঁশের সাঁকো দিয়ে খাল পারাপার হতে পারলেও পরে তাও বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালের ভাঙনের পর ২০১৬ সালে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকার প্রকল্প ব্যয়ে আগের স্লুইসগেট সংযুক্ত করে প্রায় ২৯ ফুট দৈর্ঘ্যের অন্য একটি স্লুইসগেটসহ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এতে পানি বের হওয়ার জন্য পাঁচ-ছয় ফুট দৈর্ঘ্য-প্রস্থের তিনটি গেট রাখা হয়। পরের বছরও স্লুইসগেটের ছিদ্র দিয়ে পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে প্রায় ৫০০ ফুট সড়কসহ ভেঙে আরো একটি খালের সৃষ্টি করে। এভাবে প্রতিবছরই বন্যায় ভাঙনের ফলে শুকনো মৌসুমে হালকা মেরামতের মাধ্যমে লোকজন যাতায়াত করছেন।

বাতিকুড়া গ্রামের সুরুজ আলী খানসহ অনেকেই জানান, ঐ স্থানে ব্রিজ করে দিলেই আমাদের রক্ষা হবে। আব্দুল কাদির জানান, যানচলাচলে আধাকিলোমিটার দূরের পাকা সড়কে যেতে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে। বাঁশতলা গ্রামের সিরাজ আলী জানান, এখন ভেঙে এক খালের পরিবর্তে তিন খাল হচ্ছে। আগে বাঁশের সাঁকোতে পারাপার হলেও এখন নৌকায় যেতে হচ্ছে।

ফুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, স্লুইসগেট সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় পাশে ব্রিজ বা স্লুইসগেটের ছিদ্রগুলো ভেঙে বড় করে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। ফলে প্রতি বছরই ভাঙনের কবলে পড়ছে সড়কটি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে দীর্ঘদিন ধরে সুরাহার চেষ্টা করছি। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মামুন-অর-রশিদ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অচিরেই কাজ শুরু হতে পারে।