শুঁটকির উত্পাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৩৪

চলনবিলে মাছ মিলছে কম

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

চলনবিলে ভরা মৌসুমে তেমন মাছের দেখা মিলছে না। ফলে এ অঞ্চলের শুঁটকি ব্যবসায়ীরা শুঁটকির উত্পাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন, আলমাছ আলী, হারেচ আলী, আব্দুর রহিম, আব্দুল কাদের, শামছুল হক ও দেলবার হোসেন বলেন, শুঁটকি প্রস্তুত করার জন্য প্রতি চাতালে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মাছ প্রয়োজন প্রতিদিন। কিন্তু হাটবাজারে বিশেষকরে মাছের আড়তে ঘুরেও চাহিদার অর্ধেক মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। শুঁটকি উত্পাদনকারী ব্যবসায়ীরা আরো বলেন, এ বছর চলনবিলে বন্যা দেরিতে হয়েছে। সেজন্য দুই মাস পিছিয়ে মাছ শুকানোর কাজ শুরু হয়েছে। এরপর আশানুরূপ মাছ নেই। রবিবার বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটি এলাকার অধিকাংশ শুঁটকির চাতাল বন্ধ। শুঁটকি শুকানোর চাটাইগুলো মাটিতে জড়ো করে রাখা। এই এলাকাতে মাত্র তিনটি চাতালের হাতেগোনা কয়েকটি চাটাইয়ে পুঁটি মাছ রোদে শুকানো হচ্ছে।

তাড়াশের কুন্দইল গ্রামের মহারোম আলী ও হামীম নামের দুই জন জেলে বলেন, চলনবিলে বন্যার পানির সাথে পুঁটি, টেংরা, পাঁতাসি, রায়েক, চেলা, মোয়া, চাটা খইলসা, বাড়ি খইলসা, বাইলা, গুচি, টাকি, কই, জিয়াল, মাগুর, বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ হরেক মাছ ঢুকে পড়ে। এসব মাছ ধরে তাদের বর্ষার কয়েক মাস সংসার চলে। তারা আরো বলেন, বিল থেকে পানি নেমে যাওয়ার সময় অন্যান্য বছরগুলোতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এরই মধ্যে উঁচু এলাকা থেকে পানি নেমে বিস্তীর্ণ মাঠ জেগে উঠেছে। কিন্তু আশানুরূপ মাছের দেখা মিলছে না।  এদিকে শুটকি শ্রমিক রাহেলা খাতুন, জমিরন, মইফুল, অজেদা ও খাদিজা পারভীন বলেন, বন্যার কয়েক মাস বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের কাজ করে খাওয়ার সুযোগ থাকে না। অন্যান্য বছরের এই সময়ে তারা শুঁটকির চাতালে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ বছর মাছের অভাবে তাদের অনেকের কর্মহীন দিন কাটছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মসগুল আজাদ বলেন, চলনবিলের অনেক অঞ্চলে আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। পানি কমতে থাকায় ধানখেতের ভেতরে মাছ লুকিয়ে পড়ার অধিক সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা মাছের দেখা পেলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবেন।