গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের আলোচিত পাঁচ বছরের শিশু সাকিবুল ইসলাম শুভ অপহরণ ও হত্যা মামলার ১০ আসামির সবাইকে খালাস দিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার গাইবান্ধা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের বিচারক কে এম শহীদ আহমেদ এই রায় দেন।
খালাস প্রাপ্তরা হলেন : উপজেলার বালাপাড়া গ্রামের আবদুল রাজ্জাক, মিল্টন খন্দকার ও লাভলু মিয়া, চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামের কবির হোসেন, হারুন মিয়া, সুমন মিয়া, রবিন হুড, নিজাম খাঁ গ্রামের মোস্তাফিজার রহমান, মৃণাল চন্দ্র এবং মীরগঞ্জ এলাকার রিপন কুমার সাহা।
এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের পিপি শাহীন গুলশান নাহার মুনমুন। তিনি বলেন, কী কারণে খালাস দেওয়া হয়েছে রায় ঘোষণার সময় তা উল্লেখ করেননি বিচারক। রায়ের অনুলিপি পেলে হয়তো জানা যাবে। তবে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হলো নিহত শিশুর চাচা রাজ্জাক। যিনি মামলার বাদী আশেক আলী মাস্টারের আপন ভাই।
আসামি পক্ষের আইনজীবীদের জেরার জবাবে বাদী বলেছেন, রাজ্জাক ঘটনার ৮-১০ দিন আগ থেকেই জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে শয্যাশায়ী ছিল। শুভকে সে আপন ছেলের মতোই ভালোবাসত। অপর আসামি কবিরের সঙ্গে টাকাপয়সা নিয়ে রাজ্জাকের গোলমাল ছিল। মোবাইল ফোন থেকে কবির মুক্তিপণ চায়। রাজ্জাক অসুস্থ অবস্থায় বিষয়টি থানাকে অবহিত করে। আসামিদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে রাজ্জাক ভূমিকা রাখে। সে কারণে রাজ্জাককে সন্দেহ করিনি। তার নাম এজাহারে দেইনি।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মীরগঞ্জ বালাপাড়ার আশেক আলী মাস্টারের শিশুপুত্র সাকিবুল ইসলাম শুভকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরদিন মোবাইল ফোনে শুভর বাবার কাছে তারা ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। কিন্তু মুক্তিপণ না পেয়ে শুভকে হত্যা করে।
পুলিশ ঘটনার দুই দিন পর অপহরণকারী চক্রের ৯ জনকে আটক করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে ওই রাতেই মীরগঞ্জ গুচ্ছ গ্রামের পাশে বিল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আশেক আলী মাস্টার ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আসামি কবিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। সেই জবানবন্দিতে আসামি অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বাদীর ভাই রাজ্জাকের নাম বলেন।
এরপর তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। রাষ্ট্রপক্ষে ১৭ জনের সাক্ষ্য ও জেরা, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে গতকাল খালাসের এ রায় দেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আসামি পক্ষের আইনজীবী আবু ওয়ালা মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন, আসামিরা ন্যায় বিচার পেয়েছেন। বাদী জেরাতে বলেছেন তার ভাই রাজ্জাক জড়িত নন। এছাড়া আসামি কবির যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সেটাও বিশ্বাস করেনি আদালত যার কারণে আসামিরা খালাস পেয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।
