বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে চার লেন প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:১৮

ফরিদপুর (ভাঙ্গা)-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত প্রকল্পের মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় দুই বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর একনেকে এ প্রকল্পের ডিপিপি পাশ হয়ে ৪৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম সমাপ্ত করতে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময় নির্ধারিত করে দেওয়া হয়। বরিশালের সড়ক ও জনপথ বিভাগ সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ এপ্রিল বরিশাল অংশের ৯০ দশমিক ৫৮ একর ভূমি নানান জটিলতা (মৌজা পরিবর্তন) সংশোধন করে প্রশাসনিক অনুমতির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। এসব জটিলতায় সময় বৃদ্ধি চাওয়া হলে তা ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। প্রথম দফায় প্রকল্পের মেয়াদ শেষে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করেছেন ব্যবসায়ী নেতা ও এ অঞ্চলের অর্থনীতিবিদরা। দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিক আন্দোলনের নেতারা জানান, পদ্মা সেতু, পায়রা সেতু ও পায়রা বন্দরের বাইরে আরো ১২ উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। এখানকার ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ব্যবসায় প্রসারসহ জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার ক্ষেত্রে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।

পায়রা সেতু চালু হলে বরিশাল থেকে ১১৫ কিলোমিটার দূরত্বের এ পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের যেতে আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না। এছাড়া লেবুখালী শেখ হাসিনা সেনানিবাস, পায়রা কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র, মহিপুরের তুলাতলি সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ ২৫০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নিত, পায়রা সমুদ্রবন্দরসংলগ্ন ফোর লেন রাস্তা, পটুয়াখালীর খলিসাখালী ৩২০ মেগাওয়াট তেলভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র, বরগুনার তালতলী তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র, রাঙ্গাবালী জাহাজ ভাঙা শিল্প এবং একনেকে অনুমোদন হওয়া পটুয়াখালী বিমানবন্দর, কুয়াকাটা আন্তর্জাতিকমানের স্টেডিয়াম, পটুয়াখালী-মির্জাগঞ্জ পায়রা সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির দ্বার উন্মোচন হবে। উন্নয়নের এক অপার সম্ভাবনা তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে বরিশালকে এখনই প্রস্তুত করার দাবি এ অঞ্চলের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের।