দুর্নীতির মামলায় কারাগারে গেলেন মৃধা মনিরুজ্জামান। তিনি প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে মাত্র কয়েক বছরে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি তিনি। এর আগেও দুদকের মামলায় বেশ কয়েক মাস জেল খেটেছেন তিনি। প্রতারণার মাধ্যমে অর্ধশত কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বেশ কয়েকটি মামলা ও জিডি। বিএনপি-জামায়াতের বিতর্কিত জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের কর্মকর্তারা জানান, ফরিদপুরের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মামলার আসামি মৃধা মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অবৈধ আয়ের প্রমাণ পেয়ে চার্জশিট দিয়েছে দুদক। গতকাল তিনি আদালতে হাজির হলে তাকে ফরিদপুর কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ই তার কাছে সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়। ২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আয়কর রিটার্নের একটি প্রতিবেদন তিনি দুদকে জমা দেন। তা পর্যালোচনা করে দুদকে তার দেওয়া ঐ প্রতিবেদনেই ৯৮ লাখ টাকা অবৈধ আয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ২৭ মে দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের হয়। পরে ঐ বছরের ৩০ জুলাই কারাগারে যান মৃধা মনিরুজ্জামান। দুদক কর্মকর্তা জানান, তাঁর বিরুদ্ধে আরো দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, মনিরুজ্জামান শুধু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে নামে-বেনামে হয়েছেন বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক। লাভজনক ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাবসায়িক পার্টনার নিয়ে তাদের সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত্ই তার প্রধান কৌশল। গত ১ মার্চ প্রবাসফেতর এক উদ্যোক্তা তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা আত্মসাত্ ও হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে রাজধানীর বনানী থানায় মামলা করেছেন। এই মামলা বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।
তার বিরুদ্ধে ছয়টি পাট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান খুলে পাট সরবরাহের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্ করার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ফরিদপুরের একটি জুট মিল থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।
