বিবিসি ও রয়টার্স
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরের কাছে ছয় মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে, এতে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম এ শহরের বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রতিবেশী নিউ সাউথ ওয়েলস ও সাউথ অস্ট্রেলিয়া রাজ্যে কম্পন অনুভূত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি একটি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো।
জিওসায়েন্স অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় সোয়া ৯টার দিকে হওয়া এ ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভিক্টোরিয়া রাজ্যের রাজধানী মেলবোর্ন থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে মফস্সল শহর ম্যানসফিল্ডের কাছে ও ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। পরে চার মাত্রার একটি পরাঘাত হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। সামাজিক মাধ্যমে আসা ছবি ও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপে মেলবোর্নের একটি প্রধান সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। একই মাধ্যমে শহরটির উত্তরাংশের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় বিদ্যুত্ চলে গেছে আর অন্যরা ভবনগুলো থেকে তাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। ভূমিকম্পটি পশ্চিমে ৮০০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেইড এবং উত্তরে ৯০০ কিলোমিটার দূরে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনি শহরেও অনুভূত হয়েছে। তবে মেলবোর্নের বাইরে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতেরও কোনো খবর পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার আড়াই কোটি জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অ্যাডিলেইড থেকে মেলবোর্ন ও সিডনির মধ্যে বসবাস করে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘কেউ গুরুতর আহত হয়েছেন বা এর থেকে খারাপ কোনো খবর আমরা পাইনি, এগুলো সবই খুব ভালো খবর আর ভালো খবর অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি আমরা। এই ধরনের একটি ভূমিকম্পে অনেক কিছু হতে পারত। অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের ঘটনা খুব বিরল আর আমি নিশ্চিত এর ফলে লোকজন খুব উদ্বিগ্ন ও অস্থির হয়ে আছে।’ জিওসায়েন্স অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান টেকটোনিক প্লেটের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে অস্ট্রেলিয়ার জনবহুল পূর্বাঞ্চলে ভূমিকম্প অপেক্ষাকৃত কম হয়। ১৯৮৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে নিউ ক্যাসলে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ পর্যন্ত এটিই দেশটিতে হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প।
