রুমী খোন্দকার, পাবনা প্রতিনিধি
বর্ষার পানিতে আশপাশের নদ-নদী, খাল-বিল পানিতে থইথই করলেও পাবনা জেলা মধ্য শহরের প্রবাহিত ইছামতী নদী এখন প্রায় শুকনো। নদীটি দীর্ঘদিনের দখল-দূষণে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বাড়ছে মশা প্রজনন। সম্প্রতি নদীর দুই পাড়ের দখলদার উচ্ছেদ ও খনন কাজ শুরু হলেও তা মাঝপথে থেমে গেছে। ফলে ইছামতীতে এবারও বর্ষায় পানি ঢোকেনি। স্থানীয় লোকজন ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য ইছামতীকে কেন্দ্র করেই প্রসারিত হয়েছিল। এরপর দিন দিন নদীর দুই পাড় দখল হতে শুরু করে। পানিপ্রবাহ আটকে বন্ধ হয়ে যায় উত্সমুখ। এককালের পুরো নদী পরিণত হয় মরা খালে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, নদীর উত্সমুখ থেকে লাইব্রেরি বাজার সেতু পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান ও খননকাজ শুরু করা হয়। পরবর্তী সময়ে গত ৩০ মার্চ বাকি অংশে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলেও তিন দিনের মাথায় তা বন্ধ হয়ে যায়।
বুধবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উচ্ছেদ ও খননের কারণে নদীর উত্সমুখ থেকে লাইব্রেরি বাজার সেতু পর্যন্ত ইছামতীতে পানি জমে আছে। কিন্তু ঐ সেতু থেকে শালগাড়িয়া শ্মশানঘাট পর্যন্ত নদী শুকনো। বৃষ্টির সামান্য পানিতে ময়লা আবর্জনা ভাসছে। ইছামতী নদী উদ্ধার আন্দোলন কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছু প্রভাবশালী দখলদারের কারণেই উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হয়ে আছে।
ইছামতী নদী উদ্ধার আন্দোলন কমিটির সভাপতি এস এম মাহবুব আলম বলেন, ইছামতীর দখলদার উচ্ছেদ ও খননের দাবি এখন জেলাবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন অব্যাহত আছে। যতদিন পর্যন্ত ইছামতী প্রবহমান না হবে, ততদিন আন্দোলন চলবে। পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এ বি এম ফজলুর রহমান বলেন, ‘ইছামতী প্রবহমান হলে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হবে। আশা করছি, জেলাবাসীর দাবি পূরণ হবে।’
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘করোনাকালে বিভিন্ন কারণে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ ছিল। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শিগিগরই আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী একযোগে উচ্ছেদ ও খননকাজ শুরু করা হবে। আশা করছি, আগামী বর্ষায় ইছামতী প্রবহমান থাকবে।’
