সোমেশ্বরী নদী
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা
ঝিনাইগাতী উপজেলায় সোমেশ্বরী নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন চলছেই। নানা সময় বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান ও মামলা দিলেও বন্ধ হচ্ছে বালু তোলা। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। অপরদিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুলপরিমাণের রাজস্ব আয় থেকে। এদিকে অবাধে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করায় এলাকার রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে সোমেশ্বরী নদীর বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন। ফলে ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে নদী তীরবর্তী কয়েক গ্রামের বসতভিটা।
সরেজমিনে জানা যায়, এক শ্রেণির বালু সিন্ডিকেট সোমেশ্বরী নদীর খাড়ামুড়া, রোঙ্গাজান, তাওয়াকোচা ও বালিজুরিসহ বিভিন্ন স্থানে ২৫/৩০টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করে চলছে। স্থানীয় কেউ এর প্রতিবাদ করলে দেওয়া হচ্ছে হুমকি-দামকি।
খাড়ামুড়া গ্রামের বদিউজ্জামাল, ছমির আলী, বাবুল মিয়া, সাইফুল ইসলামসহ গ্রামবাসী জানান, প্রায় একযুগ ধরে এক শ্রেণির বালু সিন্ডিকেট সোমেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। তারা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা মূল্যের বালু উত্তোলন করে ট্রাক ও মাহিন্দ্রযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছে। এদিকে অবাধে বালু উত্তোলন করায় এবং উত্তোলিত বালু সড়ক পথে পরিবহন করায় সড়কগুলো ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে সোমেশ্বরী নদীর বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন। ফলে ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে কয়েক গ্রামের নদী তীরবর্তী বসতভিটা।
জানা গেছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন যন্ত্র ধ্বংসও করা হয়। বালু লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে মামলাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও বন্ধ হচ্ছে না বালু উত্তোলন। শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা আক্তার বলেন, সোমেশ্বরী নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে বালু উত্তোলন যন্ত্র। বালু লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে মামলাও দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সোমেশ্বরী নদী থেকে বালু লুটপাট বন্ধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও তাওয়াকোচা সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। আবারও অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানান।
