ভাণ্ডারিয়ায় মাদ্রাসা সুপার জানেন না শিক্ষক ১৫ দিন ধরে জেলহাজতে

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২৯

এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি হয়ে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ১ নম্বর ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের দারুল মুহাম্মদ আদর্শ বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার গত ১৫ দিন ধরে জেলহাজতে রয়েছেন। অথচ সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা সুপার মো. হারুন অর রশিদ জানেন না তিনি কোথায় আছেন। গত সোমবার বেলা ১১টায় মাদ্রাসা চলাকালীন সরেজমিনে মাদ্রাসায় গেলে শারীরিকভাবে অসুস্থ উক্ত মাদ্রাসা সুপার  জানান, সহকারী মৌলভী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার ছুটিতে ঢাকায় আছেন। জাহাঙ্গীর হোসেন মাদ্রাসা সুপারকে ফোন করে ১০ দিনের ছুটি নিয়ে ঢাকায় গেছেন। ছুটির কোনো দরখাস্ত আছে কি না জানতে চাইলে মাদ্রাসা সুপার জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানে ছুটি নিতে কোনো দরখাস্ত লাগে না। তিনি এটাও জানেন না চাকরি বিধি অনুযায়ী কোনো শিক্ষক-কর্মচারী এজাহারভুক্ত আসামি হয়ে গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে গেলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে হয়। কিন্তু তিনি উলটো আরো এ শিক্ষকের পক্ষে ছাফাই গাইলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর উক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার তার ভাই আব্দুল আজিজ হাওলাদার, সহযোগী ইব্রাহিম হাওলাদার ও মিজান হাওলাদার ১২/১৪ জন ভাড়াটিয়া নিয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার মেদিরাবাদ এলাকার খন্দকার মেহেদি হাসান মাসুদের ভোগদখলীয় ফসলি জমি জবরদখল করে নেন। এ সময় মেহেদি হাসান মাসুদ ও তার ছেলে তামিম এতে বাধা দিলে শিক্ষক জাহাঙ্গীর হাওলাদার মেহেদি হাসান মাসুদকে ছুরিকাঘাত করে এবং জাহাঙ্গীরের সহযোগী ইব্রাহিম, মাসুদের ছেলে তামিমকে ছুরিকাঘাত করে। তামিমের চিত্কারে তার মা রেহেনা মাসুদ ছুটে এলে জাহাঙ্গীর হাওলাদারের অন্য সহযোগী মো. মিজান রেহেনা মাসুদকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেহেদি হাসান মাসুদ চার জনকে চিহ্নিত ও ১২/১৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করলে পুলিশ উক্ত মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদারকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। বর্তমানে তিনি পিরোজপুর জেলহাজতে রয়েছেন।