ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা, অর্থ আত্মসাত্ ও অর্থ পাচার বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটে তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অর্থ ফেরতে পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন এবং ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের দুজন গ্রাহকের পক্ষে জনস্বার্থে এই রিট করা হয়। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. রাজিক আল জলিলের দ্বৈত বেঞ্চে এ রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও মোহাম্মদ কাওছার এই রিট করেন। রিটে বলা হয়েছে, ইভ্যালি, ধামাকা, ই-অরেঞ্জ, আলাদিনের প্রদীপসহ নানা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান মাত্র দু-এক বছরের মধ্যে বিভিন্ন অফারের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী এসব কোম্পানি বিপুল অর্থ ইতিমধ্যে বিদেশে পাচার করেছে। ই-ওয়ালেট, গিফট কার্ডসহ আরো অন্যান্য অ-অনুমোদিত পদ্ধতিতে লেনদেন করে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে লাখ লাখ গ্রাহককে সর্বস্বান্ত করেছে। সরকারি দপ্তরগুলোর নাকের ডগায় এসব অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত দেশের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টরা কোনোভাবেই এর দায় এড়াতে পারেন না। রিটে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির সমন্বয়ে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ পর্যন্ত কতগুলো প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে এবং তারা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা প্রতিবেদন আকারে দাখিল করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিটে বাণিজ্যসচিব, অর্থসচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, আইনসচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যানসহ ১৮ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
