মো. ডায়মন্ডের সঙ্গে প্রেম ছিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার পপি মণ্ডলের (১৫)। কূটকৌশল করে সেই সম্পর্ক ভেঙে দেন আল আমিন। কিছুদিন পর বিষপানে আত্মহত্যা করেন পপি। প্রেম ভেঙে দেওয়া ও পপিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আল আমিনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন ডায়মন্ড। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ছায়া তদন্তের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দিনাজপুরের হাকিমপুরে ডাঙ্গাপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ডায়মন্ডকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বুধবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।
তিনি বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ফেনীর পশ্চিম বিজয়সিংহ লুদ্দারপাড় গ্রামে একটি টিনশেড কলোনিতে আল আমিন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। আল আমিনের বড় ভাই তোফাজ্জল হোসেন ও ডায়মন্ড ঐ টিনশেড কলোনির একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন। তারা তিন জনই ফেরি করে বিভিন্ন এলাকায় হরেক রকমের জিনিসপত্র বিক্রি করতেন।
তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, ডায়মন্ডের সঙ্গে নিজ গ্রামের পপি নামে একটি তরুণীর প্রেম ছিল। ভুল বোঝাবুঝির কারণে কিছুদিন পরই সম্পর্কটি ভেঙে যায়। এর কয়েক দিন পর পপি বিষপান করে আত্মহত্যা করেন। পপির আত্মহত্যার পর ডায়মন্ড জানতে পারে আল আমিন ইচ্ছা করে সুকৌশলে ডায়মন্ডের ফোন ব্যবহার করে পপিকে বলেছে, ডায়মন্ড তাকে ভালোবাসে না, এর পরিপ্রেক্ষিতে পপি আত্মহত্যা করে। এছাড়া ডায়মন্ড আরো জানতে পারেন, আল আমিন ও তার তিন সহযোগী রুবেল মণ্ডল, হাসিবুর রহমান, আবু বক্করকে নিয়ে কিছুদিন আগে পপির ঘরে ঢুকে তাকে যৌন নির্যাতন করে।
মুক্তা ধর বলেন, ডায়মন্ড এসব ঘটনা জানতে পেরে আল আমিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ডায়মন্ড ছুরি নিয়ে আল আমিনের ওপর হামলা করে এবং তার বুকে ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় আল আমিনকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার বড় ভাই তোফাজ্জলকেও ডায়মন্ড ছুরিকাঘাত করেন। তাদের চিত্কারে কলোনির বাসিন্দারা এগিয়ে এলে ডায়মন্ড দৌড়ে পালিয়ে যায়। আলোচিত এই ঘটনায় সিআইডির এলআইসি শাখা ছায়া তদন্ত শুরু করে। অবশেষে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া থেকে ডায়মন্ডকে গ্রেফতার করা হয়।
