নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় অভিন্ন পারিবারিক আইন জরুরি

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:২৩

অভিন্ন পারিবারিক আইন না থাকায় সকলক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তাই সাংবিধানিক ধারার সঙ্গে সংগতি রেখে তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী নারীদের অধিকারসহ সকল নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়ন জরুরি।

গতকাল বুধবার বিকালে ‘প্রস্তাবিত অভিন্ন পারিবারিক আইন’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সকল নাগরিকের সমানাধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মহিলা পরিষদ অনলাইনে এই সভার আয়োজন করে।

সংবিধান প্রণেতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, সকল নাগরিক যদি সমান হয় এবং আইনের আশ্রয় লাভের সমান অধিকারী হয়, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী নারীর প্রতি বৈষম্য দূর হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা এখনো হয়নি।

মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, প্রচলিত পারিবারিক আইনগুলো ধর্মীয় আইন ও প্রথার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে এটা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নারীদের মধ্যে এবং একই সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে।

অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে আইনসংস্কার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত ও প্রতিহত করার চেষ্টা করছে তার কতটুকু ধর্মীয় চেতনার দ্বারা আর কতটুকু কায়েমি স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত তা পরিষ্কার করে বোঝার প্রতি জোর দিতে হবে।

ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর বলেন, এই রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে সমতার জন্য। সেখানে কোনো বৈষম্যমূলক আইন থাকতে পারে না। ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, অভিন্ন পারিবারিক আইন বলতে আমরা শুধু মুসলিম বা হিন্দু না, সবার কথা বলছি। এটা বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

অভিন্ন পারিবারিক আইন গবেষক ড. ফস্টিনা পেরেরা বলেন, অভিন্ন পারিবারিক আইন শুধু মানবাধিকার আন্দোলন নয়, বরং এটা রাষ্ট্রের এগিয়ে যাবার প্রশ্ন। এই আইন প্রণয়নে রাষ্ট্রকে প্রথম এগিয়ে আসতে হবে। কারণ সংবিধানে সাম্য ও সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাবার কথা বলা হয়েছে।

অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব সম্পর্কে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা থেকে রেহাই না পাওয়ার অন্যতম কারণ সামাজিক ক্ষমতা কাঠামোয় নারীর দুর্বল অবস্থান। নারীর ব্যক্তি অধিকার ধর্মীয় আচার-আচরণ দ্বারা নির্ধারিত।

সভায় বিশেষ অতিথি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সচিব উম্মে কুলসুম। আরো বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, আইনজীবী ড. শাহ্দীন মালিক, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত প্রমুখ।