বাড়ির পাশে বন। বনের ধারে বিশাল একটি বটগাছ। সেই বটগাছে এক বানর থাকত। বটগাছের পাশেই আছে ছোট একটা কলাগাছ। আস্তে আস্তে কলাগাছটা বড় হয়ে উঠল। তাতে ধরল একটা মোচা। বনের পাশের বাড়ির ছেলে দীপু। সে একদিন কলাগাছের কাছে এল। মোচাটা দেখে সে ভাবল—এটা নিয়ে সে মাকে দেবে। মাকে বলবে রান্না করে দিতে। এই ভেবে দিপু যেই না মোচার দিকে হাত বাড়িয়েছে এটা নেওয়ার জন্য অমনি এক বানর এসে বাধা দিল।
বানর বলল, কী করছো দীপু?
দীপু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, তুমি আমার নাম জানো?
বানর বলল, হ্যাঁ, দীপু। আমি তোমাকে চিনি। আর শোন দীপু, মোচাটা এখন ছোট। এটি বড় হলে অনেকগুলো কলা হবে। পাকলে সেই মিষ্টি কলাগুলো আমি, তুমি আর তোমার মা-বাবাও খেতে পারবে।
বানরের কথা শুনে কলাগাছও কথা বলে উঠল, বানর ঠিক কথাই বলেছে, দীপু।
দীপু বানর আর কলাগাছের কথা শুনে আর মোচা বাড়িতে নিয়ে গেল না। কলাগাছ আর বানরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাড়ি ফিরে গেল।
বেশ কয়েকদিন পর দীপু কলাগাছের কাছে গিয়ে দেখল কলা অনেক বড় হয়েছে, কিছু কলা পেকেও গেছে। এরই মধ্যে বানরও এসে হাজির। বানর পাকা কলাগুলো গাছ থেকে পেড়ে নিয়ে এল। কিছু কলা দীপু খেল। কিছু কলা বানর খেল। বাকিগুলো দীপু তার মা-বাবার জন্য নিয়ে গেল। সেই থেকে কলাগাছ, দীপু আর বানর খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেল।
কিন্তু দীপু আর বানর যখন জানল যে কলাগাছ একবার ফল দিয়ে মারা যায়, তখন তাদের মন খারাপ হয়ে গেল। তারা কলাগাছের কাছে গেল। কলাগাছ বলল, তোমরা মন খারাপ কোরো না। আমার গোড়ার কন্দ থেকে আবার নতুন কলাগাছের জন্ম হবে।
কথা বলে কলাগাছ চুপ করে গেল। বানর আর দীপু কলাগাছকে ডাকল, কলাগাছ, ও কলাগাছ, কথা বলো।
কলাগাছ আর কথা বলল না। তারা মন খারাপ করে বাড়ি ফিরে গেল। সবগুলো কলা পেকে গেলে কলার ছড়ি কেটে নেওয়া হলো। কয়েকদিন পর কলাগাছটি মারা গেল।
দীপু প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে খোঁজ নিয়ে যেত নতুন কলাগাছ জন্মেছে কি না। দেখতে দেখতে একদিন গোড়ার কন্দ থেকে নতুন কলাগাছ জন্মাল। দীপু ও বানর এটা দেখে খুব খুশি। কলাগাছের চারা একসময় বড় হলো। সেই কলাগাছের সাথেও দীপু আর বানরের ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেল।
৩য় শ্রেণি, বয়স ৯, প্রগ্রেসিভ নার্সারি স্কুল, ময়মনসিংহ
