নাইমুর রহমান আপন পড়ে ঢাকার বেঙ্গলি মিডিয়াম হাই স্কুলে দশম শ্রেণিতে। পড়ালেখার পাশাপাশি চলছে তার অভিনয়। সব মিলিয়ে মোট ১০টি বিজ্ঞাপন, ৪টি নাটক এবং ৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছে আপন। তার পুরস্কারের ঝুলিতে রয়েছে দু- দুটো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন— মুনতাসির সিয়াম
দুটো জাতীয় চলচ্চিত্র পেয়েছো, নিঃসন্দেহে তুমি অভিনয়ে দারুণ। পড়ালেখায় কেমন?
নাইমুর রহমান আপন : নবম শ্রেণিতে এসে আমি নতুন স্কুলে ভর্তি হই। এর আগে পড়তাম ফুলকুঁড়ি কিন্ডার গার্টেন অ্যান্ড হাই স্কুলে। পড়ালেখায় আমি কেমন তা নিজে বলা মুশকিল। তবে কখনো ফাঁকি দিই না, এটুকু নিশ্চত। এজন্যই আগের স্কুলে পড়ার সময় প্রধান শিক্ষক শ্যুটিংয়ের দিন বিশেষ ছুটি দিতেন আমাকে।
বুঝলাম। এবার বল, অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক এলো কীভাবে?
আপন :শুরুতে ঝোঁকটা ছিল আসলে নাচ ও গানের প্রতি। পরে ২০১৫ সালে ভর্তি হই পিদিম থিয়েটারে। সেখানে বেসরকারি কোম্পানি রবির একটি বিজ্ঞাপনের জন্য শিশুশিল্পীর খোঁজে আসেন পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী। ১০-১২ জন শিশুশিল্পীকে অডিশনের জন্য আমন্ত্রণ জানান তিনি। সেই অডিশন দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের সুযোগ পাই। এরপর কাজ করতে করতে অভিনয় হয়ে ওঠে ভালোবাসা।
এসএসসি পরীক্ষার্থী তুমি। পড়ালেখা ও অভিনয় একসঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার রুটিনটা কী?
আপন : রুটিন মেনে কাজ করলে কারোরই অসুবিধা হওয়ার কথা না। শ্যুটিং চলাকালীন অন্য দিনগুলোর মতো সকাল-সন্ধ্যা পড়ালেখা হয়তো হয় না, তবে শ্যুটিং না থাকলে পড়ালেখা নিয়েই ব্যস্ত থাকি; যার জন্য ব্যালেন্স হয়ে যায়।
‘ছিটকিনি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৭ পেয়েছ। সেই সময়ের অনুভূতি কেমন?
আপন :জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেতে চলেছি জেনে প্রথমে নেচে উঠেছিলাম খুশিতে। পুরস্কার নেওয়ার দিন অবশ্য কিছুটা ভয় লাগছিল। প্রধামমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেব বলে কথা! পরে উনিই আমার ভয়টা কাটিয়ে দিলেন। পুরস্কার হাতে তুলে দেওয়ার সময় বলেছিলেন, ভালোমতো পড়াশোনা কর, সেইসঙ্গে অভিনয়টাও চালিয়ে যাও।
তোমার অভিনয় দেখে খুব প্রশংসা করেছে কেউ—এমন কোনো স্মৃতি...?
আপন :এমন স্মৃতি অনেক আছে। আমার মোট পাঁচজন ফুফু। এরমধ্যে তিন জন হাজির ছিলেন আমার সঙ্গে সিনেমা হলে মৃত্তিকা গুণ আপুর পরিচালনায় ‘কালো মেঘের ভেলা’ চলচ্চিত্রটি দেখার জন্য। সে চলচ্চিত্রে তাঁরা আমার অভিনয় দেখে খুব খুশি হয়েছিলেন। বারবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলছিলেন, এত ছোট বয়সে কীভাবে এমন সুন্দর অভিনয় করলি বাবা, কত সুন্দর করে ডায়লগগুলো বললি! দেখিস, একদিন খুব বড় হবি তুই। পরে ২০১৯ সালে তো এ চলচ্চিত্রের জন্য দ্বিতীয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলাম।
নতুন কী কাজ আসছে?
আপন :যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার একটি চলচ্চিত্র ‘বাড়ির নাম শাহানা’। এখানে ছোট্ট একটা চরিত্রে অভিনয় করেছি। এইতো কিছুদিন আগেই এর শ্যুটিং শেষ করলাম।
ধরা যাক, একদিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হলে তুমি। শিশুদের বিকাশে কোন কাজটি করার সিদ্ধান্ত নেবে?
আপন :এ সময় আমার বয়সী বেশিরভাগ ছেলেমেয়েই মোবাইল ফোনে বেশি আসক্ত। বিনোদনের তেমন কোনো মাধ্যম নেই। তাদের জন্য এমন একটা বিনোদন-ব্যবস্থা খুঁজে বের করব, যাতে মোবাইল ফোনের মোহ কেটে যায় সবার। ধন্যবাদ।
