আনোয়ারা উপজেলায় ইলিশ কিনতে দূরদূরান্ত থেকে সমুদ্রের উপকূলবর্তী এলাকার ঘাটগুলোয় ভিড় করছেন লোকজন। ক্ষতিকর উপাদান ও বরফ ছাড়া ঘাটে জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনতে পেরে একদিকে খুশি ক্রেতারা, অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি ইলিশ বিক্রি করতে পারায় লাভবান হচ্ছেন জেলেরাও। তবে ক্রেতার কাছে সরাসরি জেলেদের এই মাছ বিক্রিতে বিপাকে পড়েছেন ইলিশের মৌসুমি ব্যাপারীরা।
আনোয়ারা উপজেলা মত্স্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এই মৌসুমে উপকূলে প্রায় ৬০০টি নৌকা মাছ ধরার জন্য সাগরে নেমেছে। গত মঙ্গলবার আনোয়ারায় সমুদ্রের উপকূলে দৌভাষী ঘাট ও উঠানমাঝি ঘাট দুটি ঘুরে দেখা যায়, ইলিশ কিনতে সেখানে ভিড় জমিয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত মানুষ। জোয়ার-ভাটা হিসেব করে সকাল ও বিকাল দিনে দুই বার ইলিশ বেচাকেনা হচ্ছে এসব ঘাটে। ইলিশ নিয়ে নৌকা আসতেই হাঁকডাকে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো ঘাট এলাকা। নৌকায় থাকতেই ঝুড়িতে সাজিয়ে রাখা ইলিশ বিক্রির তোড়জোড় শুরু হয়। দর-কষাকষি চলে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে। এখানে মাছ ওজন করে বিক্রি হয় না। ঝুড়িসহ মাছের ওজন অনুমান করে দর দেন জেলেরা।
উপজেলার হাইলধর ইউনিয়ন থেকে মাছ কিনতে আসা নাছির জানান, ৭ হাজার টাকায় দুই ঝুড়ি ইলিশ কিনেছি। ঘাটে সরাসরি ইলিশ কেনা যায় বলে বাজারের তুলনায় দাম কিছুটা কম পড়ে। তা ছাড়া ফরমালিন ও বরফ ছাড়া তাজা ইলিশের নিশ্চয়তা তো আছেই। আমার কেনা দুই ঝুড়িতে ১৫ থেকে ১৬ কেজি ইলিশ হবে।
উঠান মাঝি ঘাট বাজারের ইলিশ বিক্রেতা ওসমান জানান, আমরা যারা সমুদ্রে মাছ ধরি তারা ঘাটেই বিক্রি করি। এ নিয়ম চিরকালের। আগে ঘাটে সাধারণ মানুষ আসত না। তাই একতরফা দামে ব্যাপারীদের কাছে মাছ বিক্রি করতে হতো। এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক মানুষ মাছ কিনতে আসে ঘাটে। এতে কিছুটা বেশি দামে মাছ বিক্রি করতে পারি আমরা। মৌসুমি ইলিশ ব্যবসায়ী মেহাম্মদ আব্দুল গফুর বলেন, সাধারণ মানুষের টানাটানিতে এ বছর ঘাটে কোনো ইলিশই কেনা যাচ্ছে না।
উপজেলার সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা রাশিদুল হক বলেন, এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ টনের মতো আনোয়ারার উপকূল থেকে ইলিশ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রথম দিকে একটু কম হলেও এখন দৈনন্দিন প্রায় দেড় টন করে ইলিশ আহরণ করা হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় কয়েক বছর ধরে এখানকার মানুষের ঘাটে গিয়ে ইলিশ কেনার প্রবণতা বাড়ছে।
