মিয়ানমারে থ্যান্টল্যাং শহরে সেনা ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ। বিদ্রোহীদের দাবি, ৩০ জন সেনা মারা গেছে। স্থানীয়রা পালাতে শুরু করেছেন। এদিকে আন্দোলন দমনে বয়স্কদের না পেয়ে সেনাবাহিনী বাড়ি থেকে শিশুদেরও ধরে নিয়ে যাচ্ছে। খবর ডয়চেভেলের
সেনা ও বিদ্রোহীদের লড়াই তীব্র হতেই মানুষ ঘর ছেড়ে পালাতে শুরু করেছেন। স্থানীয় মিডিয়া বুধবার জানিয়েছে, সেনা সাধারণ মানুষের বাড়িতে বোমা ফেলছে। তাই শহরের ১০ হাজার বাসিন্দার মধ্যে প্রায় সকলেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আশপাশের এলাকায় চলে গেছেন। অনেকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছেন বলে এক স্থানীয় নেতা জানিয়েছেন। কিছুদিন ধরে এখানে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সেনার সংঘর্ষ চলছে। প্রচুর বাড়িতে আগুন জ্বলছে। গত সপ্তাহান্তে অন্তত ২০টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নাথিয়াল জেলার ডেপুটি কমিশনার জানিয়েছেন, গত দুই সপ্তাহে ২ হাজার ৯ জন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে ভারতে এসেছেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, না পালালে সেনার হাতে মরতে হবে। তাদের কয়েকটি শিবিরে রাখা হয়েছে।
যাজককে হত্যা
মিয়ানমার নাও নিউজ জানিয়েছে, সেনা একজন যাজককে গুলি করে হত্যা করেছে। তার অপরাধ, তিনি আগুন নেভাচ্ছিলেন। সরকারি মিডিয়া এই খবর অস্বীকার করেছে। স্থানীয় নেতা সালাই থাং বলেছেন, বিদ্রোহীরা একটি সেনা ছাউনিতে আক্রমণ করে। সেনার ক্ষয়ক্ষতি হয়। তারপর বিমান বাহিনীর বিমান এসে হামলা চালায়। তাতে চার জন সাধারণ মানুষ মারা গেছেন। ১৫ জন আহত। বিদ্রোহীদের দাবি, তাদের আক্রমণে ৩০ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে। মিয়ানমারে সেনা ক্ষমতা দখল করার পরে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ চলছে। গত মাসে আইনসভার সাবেক সদস্যরা দেশ জুড়ে পিপলস ডিফেনসিভ ওয়ার এর ডাক দেওয়ার পর সহিংসতা আরো বেড়েছে।
শিশুদেরও ধরে নিয়ে যাচ্ছে সেনারা
মিয়ানমারে গণতন্ত্রকামীদের আন্দোলন দমনে জান্তা সরকারের গ্রেফতার অভিযান চলছেই। তাদের সন্দেহভাজন কাউকে গ্রেফতার করতে না পারলে ঐ ব্যক্তির পরিবারের অন্য সদস্য এবং আত্মীয়স্বজনকেও তুলে নিয়ে যাচ্ছে সেনারা। এমনকি ২০ সপ্তাহ বয়সি শিশু জান্তা সরকারের এই হীন কর্মকাণ্ড থেকে রেহাই পাচ্ছে না। দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজের বরাত দিয়ে গতকাল ব্রিটিশ মিডিয়া দ্য গার্ডিয়ান এই তথ্য জানিয়েছে। সামরিক জান্তা দেশটিতে শিশুসহ কমপক্ষে ১ হাজার ১০০ এর বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। জুলাই পর্যন্ত ১৪ মাস থেকে ১৭ বছর বয়সি কমপক্ষে ৭৫ শিশুকে হত্যা করেছে তারা।
