ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভবানীপুর আসনে উপনির্বাচনের আর ছয় দিন বাকি। ইতিমধ্যে জোরালো প্রচারণা শুরু করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। কিন্তু রাজ্যের একটি নির্দিষ্ট আসনেই কেন উপনির্বাচন হচ্ছে, তা নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। এ-সংক্রান্ত এক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে এই আসনে উপনির্বাচনের কারণ জানতে চেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, আজ শুক্রবারের মধ্যে কমিশনকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দোল ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। মামলাকারী তথা আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় বলেন, কমিশনের কাছে ক্ষমতা আছে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণের। কমিশন সেটা করেছে। কারণ হিসেবে কমিশন দেখিয়েছে, রাজ্যের মুখ্য সচিব যোগাযোগ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভবানীপুর আসনে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। এখানে ভোট না হলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত জনমতের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলছে। শুনানির পর একটি আসনের উপনির্বাচনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা কীভাবে এসেছে, তা জানতে চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে এক দিনের মধ্যে হলফনামা দিতে বলেছে হাইকোর্ট। আজ শুক্রবার ফের এই মামলার শুনানি হবে।
এদিকে গতকালও ভবানীপুরে প্রচারণা চালান মমতা ব্যানার্জি। হিন্দুস্তান টাইমসের বাংলা অনলাইনের এক খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণায় ঝড় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। এক দিকে উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকারকে তুলোধুনা করেছেন, অন্যদিকে দুর্গাপূজায় বিভিন্ন মণ্ডপে গিয়ে মানুষের সঙ্গে দেখা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
গতকাল চক্রবেড়িয়া এলাকায় প্রচারণাকালে তিনি বলেন, ‘এখান থেকে আমি বারবার এমপি হয়েছি। এখানকার মানুষ আমার পাশে আছে। বিধায়ক না থাকলে মুখ্যমন্ত্রী থাকা ঠিক নয়। আমাকে ছয় মাসের মধ্যে বিধায়ক হতে হবে। মনে রাখবেন, বি-তে ভবানীপুর আর বি-তেই ভারতবর্ষ।’
তিনি বলেন, ‘ঠিকভাবে নির্বাচন হলে বিজেপি ৩০টি আসনও পেত না। নন্দীগ্রামে মনোনয়নের দিন জোর করে আমাকে আহত করা হয়। পায়ে চোট নিয়ে হুইলচেয়ারে করে প্রচারণা চালিয়েছি। নন্দীগ্রামে তারা কারচুপি করেছে। সেটা আদালতে প্রমাণতি হবে।’
