হুয়াওয়ে সিএফও মেংয়ের মুক্তির পর চীন ছাড়ল স্পেভর-কভরিগ

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৩৬

মার্কিন কৌঁসুলিদের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর পর হুয়াওয়ের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা (সিএফও) মেং ওয়ানঝুকে কানাডা ছেড়ে দেওয়ার পর স্পেভর ও কভরিগের মুক্তির খবর মেলে। মেং শুক্রবারই চীনের উদ্দেশে রওনা হন বলে বিভিন্ন বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে

 রয়টার্স

চীনের কর্তৃপক্ষ কানাডার দুই নাগরিককে ছেড়ে দেওয়ার পর তারা দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন উত্তর আমেরিকার দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। কানাডার পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেফতারি পরোয়ানায় চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে ধরার অল্প সময়ের মধ্যেই ২০১৮ সালে বেইজিং গুপ্তচরগিরির অভিযোগে মাইকেল স্পেভর ও মাইকেল কভরিগ নামের ঐ দুই কানাডীয়কে আটক করেছিল।

মার্কিন কৌঁসুলিদের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর পর হুয়াওয়ের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা (সিএফও) মেং ওয়ানঝুকে কানাডা ছেড়ে দেওয়ার পর স্পেভর ও কভরিগের মুক্তির খবর মেলে। মেং শুক্রবারই চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হন বলে বিভিন্ন বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে। তাকে আটকের পর বেইজিং ও অটোয়ার মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে গিয়েছিল। শুক্রবার ট্রুডো স্পেভর ও কভরিগের ছাড়া পাওয়ার খবর জানিয়ে বলেন, এই দুই কানাডীয়কে ‘অবিশ্বাস্য কঠিন অগ্নিপরীক্ষার’ মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সবার জন্য ভালো সংবাদ হচ্ছে, তারা তাদের পরিবারের কাছে ফিরতে বাড়ির পথে রওনা হয়েছে। গত ১০০০ দিন তারা দৃঢ়তা, অধ্যবসায় ও সহনশীলতা দেখিয়েছে।’ স্পেভর ও কভরিগ দুজনই কানাডা সময় শনিবার দিনের প্রথম ভাগে দেশে নামবেন, তাদের সঙ্গে চীনে কানাডার রাষ্ট্রদূত ডমিনিক বার্টনও থাকছেন বলে জানিয়েছেন ট্রুডো। সাবেক কূটনীতিক কভরিগ ব্রাসেলসভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপে কাজ করতেন। আর স্পেভর এমন একটি সংস্থার প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, যাদের মনোযোগ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ব্যবসা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগে। চলতি বছরের আগস্টে চীনের একটি আদালত স্পেভরকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেয়। তবে কভরিগের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

মেংয়ের মুক্তি নিশ্চিতে ‘দরকষাকষির’ অংশ হিসেবেই এই দুই কানাডীয়কে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে পর্যবেক্ষকদের অনেকে আগে থেকেই বলে আসছিলেন। এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, চীনে আটক কানাডার দুই নাগরিক আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘ভুগেছেন’। মেং তার বিরুদ্ধে আনা জালিয়াতির অভিযোগ বিষয়ে মার্কিন কৌঁসুলিদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পর শুক্রবার কানাডার এক বিচারক হুয়াওয়ের সিএফওকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। শুক্রবার এক বিবৃতিতে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মেং ছাড়া পেলেও হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে বিচারের প্রস্তুতি চলবে। ১৯৮৭ সালে হুয়াওয়ে প্রতিষ্ঠা করা ধনকুবের রেন ঝেংফেইয়ের বড় মেয়ে মেং। রেন ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ৯ বছর চীনের সেনাবাহিনীতে ছিলেন; তিনি দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টিরও সদস্য। হুয়াওয়ে এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিকম যন্ত্রাংশ নির্মাতা কোম্পানি; চীনের কর্তৃপক্ষ তাদের এসব যন্ত্রাংশ কাজে লাগিয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছে বলে অভিযোগ পশ্চিমা অনেক দেশের। তবে হুয়াওয়ে ও চীন প্রথম থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।