সারিয়াকান্দিতে নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ধস

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৬

দুশ্চিন্তায় স্থানীয় মানুষ

আমিনুল ইসলাম হিরু, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) সংবাদদাতা

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের বিভিন্ন পয়েন্ট ধসে যাচ্ছে। ধস আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে যমুনা তীরবর্তী গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সময় ইছামারা, কামালপুর, টিটুরমোড়, রৌহাদহ ও গোদাখালী পয়েন্টে তীররক্ষা প্রকল্পের প্রায় ১ হাজার মিটার জুড়ে স্থানে স্থানে ধসে গেছে।

দেখা গেছে, উল্লেখিত স্থানে তীররক্ষা প্রকল্পের ওয়াকওয়ের পাশে বড় বড় খাদের সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সময় খাদে পানি জমে প্রকল্পের ব্লকপিসিং ক্রমশ দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় পয়েন্টগুলো ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করছে নদী পাড়ের মানুষ। দফায় দফায় বন্যা, প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তে নদী তলদেশে গভীরতা সৃষ্টি হয়ে লাঞ্চিং অ্যাপ্রোনে ডাম্পিংকৃত সিসি ব্লক সরে যাওয়ায় তীররক্ষা প্রকল্প ধসে যাওয়ার কারণ বলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান।

২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর তীররক্ষা প্রকল্প গ্রহণের ঘোষণার পর প্রায় ৪ শত কোটি টাকা ব্যয়ে ইছামারা থেকে মথুরাপাড়া পর্যন্ত আট কিলোমিটার যমুনার তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।      

এ ব্যাপারে কামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েদুল ইসলাম জানান, জরুরি ভিত্তিতে মেরামত না করলে ধসে যাওয়া অংশ দিয়ে নতুন করে খাল সৃষ্টি হবে। নির্মিত বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ, হাওরাখালী ও ফকিরপাড়া গ্রাম বিলীন হবে। শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত তীর সংরক্ষণ প্রকল্প কাজে আসবে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, ধস ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। ‘বগুড়া জেলায় যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ঐ প্রকল্প অনুমোদন হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। জানতে চাইলে নদী ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ও রিমডেলিং কারিগরি কমিটির আহ্বায়ক রমজান আলী প্রামাণিক  ইত্তেফাককে বলেন, আমি গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছি। জনপদ রক্ষার স্বার্থে তীররক্ষা প্রকল্প টিকিয়ে রাখা দরকার। এজন্য গৃহীত প্রকল্প অনুমোদনে বোর্ডে সুপারিশ করা হবে।