১৩৫ ফুট বিলীন
বিধান চন্দ্র ঘোষ, দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা
খুলনার দাকোপে কালাবগী ‘বৃহস্পতিবার’ বাজার এলাকায় বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১৩৫ ফুট বেড়িবাঁধ সুতারখালী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের তাত্ক্ষণিক প্রচেষ্টায় পানি আটকানো সম্ভব হলেও এখনো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নবনির্মিত টেকসই বেড়িবাঁধ (প্রায় সাড়ে ৬০০ ফুট) হস্তান্তরের আগেই ভাঙনের কবলে পড়ায় এলাকার হাজারো লোকজন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় উপজেলার ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডারে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত হয় টেকসই বেড়িবাঁধ। চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করে। নবনির্মিত বেড়িবাঁধ এখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিকট হস্তান্তর করা হয়নি। কিন্তু তার আগেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ৩২ নম্বর পোল্ডারের কালাবগী ‘বৃহস্পতিবার’ বাজার এলাকায় প্রায় ১৩৫ ফুট ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে সুতারখালী নদী গর্ভে চলে যায়। ফলে সদ্য রোপা আমনখেত বাঁচাতে ইউনিয়নের হাজারো লোকের মধ্যে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। ঐ রাতেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাইকিং করে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ শ্রমিক কাজ করে তাত্ক্ষণিক পানি আটকাতে সক্ষম হয়। এদিকে ভাঙনের খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, খুলনা জেলা পরিষদ সদস্য কবির হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির, চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউপি সদস্য নিমাই মণ্ডল, মহসিন শেখ, মোন্তাজ সানা, আইয়ুব ঢালী, বেবী নাজনিন, খোকন ঢালী, জাহিদ ফকিরসহ অন্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ইউপি সদস্য মহসিন শেখ, কালাবগীর আমিনুর সানার বাড়ি, কালাবগী ১০ নম্বর গেট থেকে নলিয়ান শাহাবুদ্দিন সানার বাড়ি, সরকার বাড়ি, জালাল গাজী ও লতিফ সানার মাছের ঘের সংলগ্ন এবং গুনারী কালি বাড়ির উত্তর পাশে অনুরূপ ঝুঁকিপূর্ণ আছে বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের পেছন দিয়ে ঐ রাতেই বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সুতারখালী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের পেছন দিয়ে আরেকটি বিকল্প বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে। এ ছাড়া ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলে ডাম্পিং করা হবে।
