হিমাগারে আলু রেখে বিপাকে কৃষক

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪০

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা

বেশি দামের আশায় হিমাগারে আলু মজুত করে রেখে বিপাকে পড়েছেন বাগমারা কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। অন্যান্য বছর এ সময়ের মধ্যে হিমাগারের আলুর অধিকাংশ বিক্রি হয়ে যায়। তবে এবারের চিত্র পুরো উলটো। উপজেলার চারটি কোল্ড স্টোরেজে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। সবে মাত্র স্টোর থেকে আলু বাইর করা শুরু করেছে আলু চাষিসহ ব্যবসায়ীরা। কিন্তু আলুর ব্যাপক দরপতন হওয়ায় প্রতি বস্তায় খরচ বাদে কেনার দামও জুটছেনা তাদের। তারা জানায়, দরপতন হওয়ায় এই আলু এখন হিমাগারেই রেখে যেতে হবে।

সরেজমিনে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে জাত এবং মানভেদে স্টোরে আলু বিক্রয় হচ্ছে ১২-১৬ টাকা কেজি। মৌসুমের শুরুতেই যে আলু কিনতে হয়েছে প্রায় ২০ টাকা কেজি দরে। আলুর বস্তাপ্রতি কোল্ড স্টোরেজের ভাড়া বাবদ দিতে হচ্ছে ২৫০ টাকা। আলু সুটিং করে পুনরায় বস্তা প্যাকেটিং করতে শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে ২০ টাকা। স্টোরে আলু সংরক্ষণের সময় লেবার চার্জ দিতে হয়। সব কিছু মিলিয়ে বস্তাপ্রতি লোকসান হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা।

বশার কোল্ড স্টোরেজে ১৩ হাজার বস্তা আলু রেখেছেন গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের পলাশী গ্রামের আছির উদ্দীন। তিনি বলেন, ৩০ বছর থেকে স্টোরে আলু সংরক্ষণ করে আসছি। এত লোকসানের পাল্লায় আগে পড়তে হয়নি। গতবার আলুর অধিক বাজারদর ছিল। সেই বাজারের দিকে খেয়াল করে এবারও অনেক আলু স্টোরজাত করেছি। আলুর দাম না থাকায় বিপুল পরিমাণ লোকসান হবে। একই মন্তব্য করেন আত্রাই উপজেলার শুঁটকিগাছা গ্রামের আরেক আলু ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বলেন, আমি বশার কোল্ড স্টোরেজে ১০ হাজার বস্তা আলু রেখেছি। একদিকে দাম কম আর অন্যদিকে সংরক্ষণ ব্যয় সব মিলিয়ে লোকসান হবে।

সালেহা ইমারত কোল্ড স্টোরেজ লি. এর ব্যবস্থাপক সাজ্জাদুর রহমান জুয়েলসহ কয়েকটি স্টোরের ম্যানেজার ও স্টোর সংশ্লিষ্টরা  বলেন, এ বছর তাই আলু বিক্রয় কমে গেছে। সব কিছু স্বাভাবিক হলে আলুর দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান জানান, চলতি বছর উপজেলায় সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষ করা হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর ভালো ফলন হয়েছিল। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরাও আলু সংরক্ষণ করেছেন বেশি। তাছাড়া এ সময় বাজারে অন্যান্য সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় আলুর দাম কমে গেছে। তার মতে সরকার এই মুহূর্তে আলু রপ্তানির ব্যবস্থা করলে কৃষকরা আলুর ভালো দাম পেত।