টেকনাফে হাতি শাবকের মৃতদেহ উদ্ধার

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪২

 

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশের ঝিরি খাল থেকে হাতি শাবকের একটি মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকালের দিকে ক্যাম্পে কর্মরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা এ মৃতদেহ উদ্ধার করে বন বিভাগকে হস্তান্তর করেছে। এমনটি জানিয়েছেন কক্সবাজার ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পুলিশ সুপার (এসপি) তারিকুল ইসলাম তারিক।

এসপি তারিক জানান, স্থানীয়রা খবর দেন টেকনাফে ১৬ এপিবিএন এর আওতাধীন রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬ (শালবাগান) তাঁরকাটার বেষ্টনীর বাইরে আনুমানিক ৫০০ গজ পশ্চিমে পাহাড়ের পাদদেশে পানির ছড়ার মধ্যে একটি বন্যহাতি মৃত অবস্থায় ভাসছে। বন্যহাতি মৃত্যুর খবর ক্যাম্প এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্সুক সাধারণ রোহিঙ্গারা ভিড় জমালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শালবাগান এপিবিএন ক্যাম্পের অফিসার ও ফোর্স মোতায়েন করা হয়। ধারণা করা যাচ্ছে বন্যহাতিটি আনুমানিক তিন-চার দিন আগে পাহাড় চূড়া থেকে পড়ে পানির ছড়ার মধ্যে মারা যায়। শালবাগান এপিবিএন কর্তৃক সংশ্লিষ্ট বন বিভাগকে অবহিত করে।

কক্সবাজার বন বিভাগের (দক্ষিণ) বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সরোয়ার আলম বলেন, কক্সবাজার ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন কর্মকর্তারা ক্যাম্প সংলগ্ন শালবাগান এলাকা থেকে প্রায় দুই বছর বয়সি শাবকটির মৃতদেহ উদ্ধার করে। বন কর্মীরা শাবকটির শরীরে কোনো ক্ষত পায়নি। এরপরও মৃত্যুর কারণ জানার জন্য একজন ভ্যাটেরিনারি সার্জনকে ময়নাতদন্ত করতে বলেছি।

টেকনাফ বন বিট কর্মকর্তা ছৈয়দ আশিক আহমদ জানান, গত (২০ সেপ্টেম্বর) একই ঝিরি থেকে আরেকটি হাতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এ নিয়ে পরপর দুটি হাতির মৃতদেহ একই স্থানে পাওয়া গেল। হাতির মৃত্যুর কারণ সঠিক বলা মুশকিল। বনের ভেতর স্থানীয় ও রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তদের অবস্থানের একটা বিষয়ও রয়েছে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলায় মানুষের পাতা ফাঁদে প্রায় হাতির মৃত্যু হয়। হাতির আবাস ও চলাচলের পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব ক্রমে বাড়ছে। গত চার বছরে মারা পড়েছে প্রায় এক ডজন হাতি। আর ২০০১ থেকে ২০২১ সাল এ বিশ বছরে (চলতি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) প্রায় ১৩০টি হাতি মারা গেছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।