জার্মানির সাধারণ নির্বাচন আজ

অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের উত্তরসূরি কে হচ্ছেন

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪৬

ইউরোপের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে সাধারণ নির্বাচন আজ। এই নির্বাচনে লড়ছেন না দেশটির দীর্ঘদিনের চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল। তার উত্তরসূরি কে হচ্ছেন, সেটা জানতে আগ্রহভরে দেশটির নির্বাচনের দিকে নজর রাখছে বিশ্ব। যদিও বিভিন্ন জরিপ বলছে, কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাচ্ছে না। জোট সরকারই গঠিত হতে পারে দেশটিতে। জার্মানির এবারের নির্বাচনকে অনেক বিশ্লেষক জলবায়ু নির্বাচন বলে মন্তব্য করছেন। কারণ সাম্প্রতিককালে ভয়াবহ বন্যায় ও প্রাণহানিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাকে গুরুত্ব দিচ্ছে জার্মানরা। গত শুক্রবার দেশটিতে হাজার হাজার মানুষ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে সমাবেশ করেছে। এবারের নির্বাচনে ৪৭টি দল               প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে নির্বাচনে লড়াই হবে প্রধান তিনটি দলের মধ্যেই। অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেলের দল খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী সিডিইউর চ্যান্সেলর প্রার্থী হলেন আরমিন লাশেট। ইতিমধ্যে তার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন ম্যার্কেল। পরবর্তী চ্যান্সেলর হিসেবে ল্যাশেটকে সমর্থন দিয়ে ম্যার্কেল বলেছেন, তিনি হলেন ‘ব্রিজ-বিল্ডার’। তিনি জার্মানদের একতাবদ্ধ করবেন। যদিও জরিপে এগিয়ে আছে সামাজিক গণতন্ত্রী দল এসপিডি। দলটির চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী বর্তমান অর্থমন্ত্রী ওলাফ শলত্স। তার কারণেই দলটি এবারের নির্বাচনে ভালো করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রিন পার্টি। এই দলের চ্যান্সেলর প্রার্থী হলেন আনালেনা বেয়ারবক।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচন খুবই হাড্ডাহাড্ডি হবে। ক্ষমতাসীন সিডিউ-সিএসইউ জোটের শরিক এসপিডি দল জরিপে এখন শীর্ষে রয়েছে। নির্বাচনের রাতেই জানা যাবে কোন দল বেশি ভোট পেয়েছে এবং কত আসন পাচ্ছে। কিন্তু সরকার তখনই গঠন হবে, যখন বিজয়ী দল অন্য একটি বা কয়েকটি দল নিয়ে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিশ্চিত করতে পারবে। যে কারণে জার্মানির পরবর্তী নেতা কে হচ্ছেন সেটা জানতে সময় লাগবে।

জার্মানির নির্বাচন ও সরকার গঠনের ব্যবস্থা কিছুটা ভিন্ন! জার্মান নাগরিকেরা ফেডারেল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের সদস্যদের নির্বাচিত করবেন। এই কক্ষের আসনসংখ্যা কমপক্ষে ৫৯৮। জার্মান ভোটাররা দুটি ভোট দেন। প্রথমে আসনভিত্তিক ভোট, যা দিয়ে স্থানীয় এমপি নির্বাচিত করেন। দেশটিতে সরাসরি নির্বাচিত এমপির আসনসংখ্যা ২৯৯। যে প্রার্থী এক আসনে সর্বোচ্চ ভোট পান, সেই আসনে তিনি নির্বাচিত হন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ভোটের মতোই। কিন্তু দ্বিতীয় ভোটের সিস্টেম একটু ভিন্ন। এটি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব। বাকি ২৯৯টি আসন প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়, তারা মোট ভোটের কত অংশ পেয়েছে তার ভিত্তিতে। তবে এক্ষেত্রে কোনো দলকে পার্লামেন্টে আনুপাতিক আসন পেতে হলে কমপক্ষে ৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। ছোট ও কট্টরপন্থি দলগুলো যাতে ক্ষমতা পেতে না পারে, সেজন্যই এই নিয়ম করা হয়েছে। আর এই দ্বিতীয় ভোটের ব্যবস্থা কোনো বড় দলকে সরকার গঠনের সুযোগ করে দিতে পারে।

জার্মানিতে ভোটগ্রহণের জন্য সাধারণত রবিবারের দিনটিকেই বেছে নেওয়া হয়। নাগরিকেরা ছুটির দিনে নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। এবার ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪ লাখ। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হলে গণনা শুরু হবে। শিল্পোন্নত দেশ হলেও জার্মানি নিরাপত্তার খাতিরে এখনো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করে না। কাগজের ব্যালট গণনার পর দ্রুত ফলাফল জানতে অবশ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়ছে।