লো-ভোল্টেজ ও বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে মেশিন

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪৭

চট্টগ্রামের সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে নানা সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে ওষুধের মান যাচাই কার্যক্রম। বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ ও ল্যাবে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি ঢুকে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান মেশিন। এনালিস্ট স্বল্পতায় ওষুধের মান যাচাই করে রিপোর্ট প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরেও একটি পূর্ণাঙ্গ ল্যাবে পরিণত করা যায়নি প্রতিষ্ঠানটিকে। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন কোম্পানির উত্পাদিত অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের মাত্র ১০ শতাংশ মান পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম থেকে ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে মান যাচাইয়ের জন্য ঢাকায় ল্যাবে পাঠাতে হচ্ছে। এতে রিপোর্ট পেতে গ্রহীতাদের দীর্ঘ সময় লাগছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ওষুধের মান যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশে ঢাকায় ও চট্টগ্রামে দুটি সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি রয়েছে। স্বাধীনতার আগেই চট্টগ্রামে ল্যাবটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রামের পরে ঢাকায় সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হলেও সেটি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতি লাভ করেছে। কিন্তু চট্টগ্রামের ল্যাবটিতে উন্নত প্রযুক্তি স্থাপন না করায় পিছিয়ে পড়েছে। অথচ চট্টগ্রাম বন্দরের কারণে ল্যাবটি ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দ্বিতল বিশিষ্ট একটি ভবনে নিচ তলায় রয়েছে ওষুধের মান যাচাইয়ের ল্যাব। ল্যাবে রয়েছে ওষুধের মান যাচাইয়ের নানা যন্ত্রপাতি।           সংশ্লিষ্টরা জানান, নানা সমস্যার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে ভবনের নিচ তলায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে। এছাড়া বিদ্যুতের ভোল্টেজ ২০০-এর কম হলে ল্যাবের মেশিন চালানো সম্ভব হয় না। অথচ ১৬০ ভোল্টেজের বেশি বিদ্যুত্ থাকে না। ফলে ল্যাবের জন্য একটি সাবস্টেশন প্রয়োজন। বিদ্যুত্ বিভাগ একটি সাবস্টেশন স্থাপন করতে গেলে ৭৫ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে।

ল্যাবে ওষুধের মান যাচাইয়ের কেমিক্যালের রি-এজেন্ট দরকার। এর স্বল্পতায় মান যাচাই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই খাতে কমপক্ষে বছরে ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বরাদ্দ একেবারে অপ্রতুল। ওষুধের মান যাচাইয়ের জন্য ৬০ আইটেমের কেমিক্যাল প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু আমরা ২৬ আইটেমের কেমিক্যাল সরবরাহ পাচ্ছি। ল্যাবে টেকনিক্যাল জনবল সংকট প্রকট। ওষুধের মান পরীক্ষার জন্য এনালিস্ট পদে জনবলের স্বল্পতা রয়েছে। কাজের চাপ বিবেচনায় কমপক্ষে পাঁচ জন এনালিস্টের প্রয়োজন। বর্তমানে কর্মরত আছেন দুই জন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ল্যাবে অ্যালোপ্যাথিক, হোমিও, ইউনানী ও আয়ুর্বেদ এবং হারবাল—এ চার ধরনের ওষুধের মান যাচাই করা হয়। ল্যাবে মেশিনারি স্বল্পতায় অ্যালোপ্যাথিকের মাত্র ১০ শতাংশ ওষুধের মান যাচাই সম্ভব হচ্ছে। তবে অন্যান্য ক্যাটাগরির সব ওষুধের মান যাচাই করা যায়। ল্যাবে মান যাচাইয়ের জন্য প্রতি মাসে প্রায় দেড়শর মতো ওষুধের নমুনা আসে। তার মধ্যে মাসে ৮০ থেকে ৯০টি ওষুধের নমুনা পরীক্ষা সম্ভব হয়।

সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি চট্টগ্রামের পরিচালক মোহাম্মদ কাইয়ুম বলেন, ল্যাবের আধুনিকায়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে চট্টগ্রামের ল্যাবের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতি নেওয়ার লক্ষ্যে উন্নত প্রযুক্তির মেশিন স্থাপনের কাজ চলছে। নতুন হাইপারফরমেন্টস লিকুইড কোমেট্রোগ্রাফ (এইচপিএলসি) নামে একটি মেশিন আনা হচ্ছে। এটি বসালে চট্টগ্রামের ল্যাবে ৮০ শতাংশ ওষুধের মান যাচাই করা যাবে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে মেশিনটি আসবে। এছাড়া ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৯ ক্যাটাগরির ৭৮টি মেশিন কেনা হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যুতে লো-ভোল্টেজ ও এনালিস্ট স্বল্পতায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’