উন্নয়ন পরিকল্পনায় তরুণদের যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে ওয়েবিনারে বক্তারা

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০৭

দেশের জনমিতিক লভ্যাংশ পেতে হলে উন্নয়ন পরিকল্পনায় তরুণদের যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থনৈতিক নীতির পাশাপাশি সামাজিক নীতিও গ্রহণ করে দুটির সমন্বয় করতে হবে। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে গতকাল শনিবার ‘৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এজেন্ডা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগে সদস্য (সচিব) মোসাম্মত্ নাসিমা বেগম। আলোচক হিসেবে অংশ নেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ম্যানেজার নাজমুল আহসান, ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইআইডি) যুগ্ম-পরিচালক ফালগুনি রেজা, ব্র্যাক ইয়ুথ প্ল্যাটফরমের অপারেশন্স লিড সামাঞ্জার চৌধুরী, জাগো ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক এশা ফারুক, ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের নারী অধিকার ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক ম্যানেজার মরিয়ম নেসা। ওয়েবিনারে সানেমের জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ইশরাত শারমীন গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।। তবে এই পরিকল্পনা এমন সময়ে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে যখন দেশ কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সৃষ্ট আর্থ-সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অর্জিত সাফল্য কোভিডের কারণে আশঙ্কার সম্মুখীন হয়েছে। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য এ পরিস্থিতি আরো চ্যালেঞ্জিং। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগানোর যে সুযোগ রয়েছে তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। বর্তমান সময়ে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য একটি বহুল আলোচিত বিষয়। এ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া দরকার। সেই সঙ্গে তরুণদের মধ্যে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। মরিয়ম নেসা বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া যে স্বপ্নকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তরুণদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন চাহিদার বিভিন্ন অংশকে চিহ্নিত করে তাদের সবার চাহিদা পূরণের জন্য সচেষ্ট হতে হবে। নাসিমা বেগম বলেন, নীতিনির্ধারণে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতেও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় চেষ্টা করে যাচ্ছে। আগেই তৈরি হওয়ায় এই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কোভিড-১৯ পরবর্তী পরিস্থিতির পূর্ণ প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব না হলেও পরবর্তীতে বার্ষিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংযোজন করা হবে। করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে বাল্যবিবাহ বেড়ে গেছে, শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে, এসব ব্যাপারে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ই-কমার্স খাতে দুর্নীতির ফলে এই খাতের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে, যা এই খাতের সত্ তরুণ উদ্যোক্তাগণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রথম পর্যায়ের জনমিতি পার করছে। এর সুবিধা ভালোমতো নিতে আমাদের অর্থনৈতিক নীতির পাশাপাশি সামাজিক নীতিও গ্রহণ করে দুটির সমন্বয় করতে হবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এই জবাবদিহি নিশ্চিতে শুধু সরকার নয়, সুশীলসমাজ ও গবেষকরাও ভূমিকা রাখতে পারেন। নীতিনির্ধারকদের এই পরিকল্পনায় উল্লিখিত প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তরুণদের সামাজিক আন্দোলন এবং তরুণ নারীদের জন্য সমতা আনয়নের মাধ্যমে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।