সরকারি খাল ‘দখল করে’ পৌরমেয়রের ভবন 

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:২৬

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভায় সরকারি খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে পৌরমেয়র আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে। একাধিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরমেয়র গত এপ্রিলে  খাল দখল করে ভবন দুইটি নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। তারা বলছেন, এ অভিযোগের ভিত্তিতে আগস্টে পবা উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে ভবন নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে মেয়রকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয় ভূমি অফিস।  তবে  ভবন নির্মাণের কাজ ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন পৌরমেয়র।

এদিকে, এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বছরখানেক আগে ওই খাল বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন করে। সরকারি ওই খালের ওপরই কাটাখালী পৌরসভার মেয়র গত এপ্রিলের দিকে ভবন নির্মাণ শুরু করেন। গত ১৯ জুলাই একতলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন করা হয়।

ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে সরকারি খালের ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে খালের ওপর প্রায় ১ হাজার ১৪৪ বর্গফুট জায়গাজুড়ে একটি তিনতলা ভবন নির্মাণ শুরু হয়। এখানে ইতোমধ্যে দুইতলা ভবন উঠে গেছে। ওই ভবন তিনতলা হবে। ভবনের দোকান হবে ২১টি। অন্যদিকে ব্রিজের উত্তর পাশে খালের ওপর মেয়র আব্বাসের আরেকটি ভবনের দুইতলা পর্যন্ত উঠে গেছে। এ ভবনে দোকান হবে ৬টি।

খালের ওপর ভবন নির্মাণ নিয়ে কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী বলেন, খালটা দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা আটকে এক রকম ভরাটই ছিল। ফলে ওই খালের আশপাশে অনেক ব্যবসায়ী অনেক বছর ধরে দোকানপাট চালিয়েছেন। বিএমডিএ যখন খাল খনন করতে আসে, তখন ওই মানুষগুলো বাধা দিতে থাকে। ভূমি অফিসের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য তিনি অনুমতির জন্য আবেদন করবেন। এ বিষয়ে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।
গতকাল রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, পৌরসভার ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের দক্ষিণ দিকে একটি রাস্তার কাজ চলছে। এ কারণেও ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

জেলার পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দিন রবিবার বিকেলে সাংবাদিকদের বলেছেন, মেয়র তাকে শুক্রবার ফোন দিয়ে জানিয়েছেন অনুমতির জন্য আবেদন করবেন। তার আবেদন পেলে দেখবেন, সরকারি খালের ওপর ভবনটা আসলে নির্মাণ করা যাবে কিনা। সকাল থেকে ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন মেয়র আব্বাস আলী। 

ইত্তেফাক/এমএএম