দাঁড়কাকের কালো দিয়ে আলো ছড়াতে চান ফারজানা

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৫৬

  ফারহানা ইয়াসমিন

 

আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই বিদেশি পোশাক ব্যবহারের মোহ থেকে সমাজকে বের করে আনার জন্য দেশীয় পোশাক নিয়ে কাজ করছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী ফারজানা ফেরদৌস। এক ভাইয়ের আর্মিতে চাকরি হওয়ায় এবং অন্য ভাই ক্যাডেট কলেজে পড়ার সুবাদে তাদের একমাত্র ছোট বোন ফারজানাকে একা একা খেলাধুলা করে ছোটবেলা পার করতে হয়েছে। তখন থেকেই ফারজানা খেলাধুলার ছলে একা একা দোকান বানাতেন আবার তিনি নিজেই সেই দোকানের ক্রেতা হতেন। সবাই যখন পুতুল নিয়ে খেলা করত, তখন ফারজানা দোকান বানিয়ে খেলা করতেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর মনে হলো নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নিজের টাকায় কিনতে পারলে ভালো লাগত তার। সে জন্য দু-একটা টিউশনি শুরু করলেও বাসার লোকজন এ কাজে অখুশি ছিল। কারণ আমাদের সমাজব্যবস্থা অনুযায়ী মেয়েদের অন্য বাসায় পড়াতে যাওয়াটা মোটেও নিরাপদ ও সুখকর নয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে ফারজানা দাঁড়কাক নামে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা শুরু করেন। দাঁড়কাক নামটি শুনে প্রথম দিকে সবার খুব অদ্ভুত লেগেছিল। ফারজানাকে অনেকেই বলেছিল এই দাঁড়কাক নামটি পরিবর্তন করে অন্য কোনো সুন্দর একটি নাম ব্যবহার করতে। কাকের রং কালো, এই কালো রঙের পাখিটি সমাজের চোখে অসুন্দর, কিন্তু এই পাখি রাস্তায়, শহরের অলিতে-গলিতে পড়ে থাকা নোংরা খেয়ে একদিকে যেমন তার জীবন বাঁচায়, অন্যদিকে আমাদের ভালোর জন্য পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়া আমাদের সমাজ কালো রঙের মেয়েদের  বিরূপ চোখে  দেখে। কালো রঙের প্রতি এরকম হিতকর মনোভাব পরিবর্তন করার জন্য ফারজানা দাঁড়কাক নামটি ব্যবহার করে তার ব্যবসা শুরু করেন।