দুমকি (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
দুমকি উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন ভুল থাকায় বিপাকে পড়েছে। হঠাত্ ইউনিক আইডি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পত্র প্রেরণ করলে তাতে সব শিক্ষার্থী অভিভাবকদের জন্মনিবন্ধন প্রয়োজন হওয়ায় এবং জন্ম নিবন্ধনে ভুল থাকার কারণে কাজ করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা জন্মনিবন্ধন নিয়ে এলে সংশোধন করার জন্য বলা হলে অভিভাবকরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। অনেকের অনলাইন জন্মনিবন্ধন নেই তাদের পুনরায় অনলাইন করতে হচ্ছে আবার অনেকের নিবন্ধনে বাবা অথবা মায়ের নামে ভুল রয়েছে। বড় ধরনের ভুলের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এসে সংশোধন করতে হচ্ছে। এটা এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাবে ধারণা ছিল না, এখন কাজে লাগছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী করিম, আলামিন, মোস্তাফিজ, সুমন, মিম ও সুবর্না। অনেক শিক্ষার্থীর সনদের সঙ্গে মিল না থাকায় কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
জন্মনিবন্ধন আইন ২০০৪ যা ২০০৬ সালের ৩ জুলাই কার্যকর হলেও অনলাইনে জন্মসনদ দেওয়া শুরু হয়েছে ২০১০ সালে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্পটি ৩য় পর্যায় শেষ হয় ২০১৬ সালে। এরই মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্মসনদ নিলেও বাবা-মায়ের জন্ম সনদ নেননি। এ বছরে শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডির কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থী ও বাবা-মায়ের জন্মসনদ প্রয়োজন হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে অনলাইনে জন্ম সনদ প্রয়োজন।
আংগারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র লস্কর ও আজিজ আহম্মেদ কলেজের অধ্যক্ষ আহসানুল হক বলেন, জন্মনিবন্ধনে শিক্ষার্থী ও বাবা-মায়ের নামে ভুল থাকায় আমরা ইউনিক আইডির ফরম পূরণ করতে বিপাকে পড়েছি। এ বিষয়ে মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার বলেন, জন্মসনদের বিষয়ে চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে ভুক্তভোগীরা। পূর্বে অনলাইন না হওয়ার কারণে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হাতে লিখে দেওয়া হতো জন্মসনদ। তাছাড়া অনেক শিক্ষার্থীর বাবা-মায়ের নাম, জন্ম তারিখ তাদের সনদের সঙ্গে মিল না থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে সংশোধন করতে হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আবদুল্লাহ সাদীদ বলেন, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন থেকে প্রতিদিন জন্মসনদ সংশোধন করার জন্য এলে অনেক সময় দাপ্তরিক কাজ ফেলে রেখেও ভুক্তভোগীদের জন্মসনদ সংশোধন করে দিচ্ছি।
