খুলনা অঞ্চল থেকে ইলিশ রপ্তানি করছে ২৩ প্রতিষ্ঠান

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:২৬

খুলনা অঞ্চল থেকে ভারতে ইলিশ পাঠাচ্ছে ২৩ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার পর খুলনার ভৈরব নদের ৪ নম্বর ঘাট ও রূপসা ঘাটে রপ্তানিকারকদের প্রতিনিধিরা ইলিশ কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। এদিকে স্থানীয় মোকামে গত বছরের তুলনায় এ বছর ইলিশ আমদানির পরিমাণ অনেক কম। সেই সঙ্গে দামও বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনা অঞ্চল থেকে ২৩ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইলিশ কিনছে। উল্লেখযোগ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে—আরিফ সি ফুড, সেভ অ্যান্ড সেফটি, বাগেরহাট সি ফুড, আলফা এগ্রো, সাউদার্ন ফুড, রূপসা ফিশ অ্যান্ড অ্যালাইড, রহমানিয়া ইনপ্যাক্ট, জয় এন্টারপ্রাইজ, সি গোল্ড এক্সপোর্ট, এমএস মাহিমা এন্টারপ্রাইজ, সততা ফিশ ফিড, সরদার অ্যালুমোনিয়াম, আনোয়ার ফ্রোজেন ফুড, ন্যাশনাল এগ্রো ফিশারিজ, রাব্বি এন্টারপ্রাইজ, রিয়ানস হাব, কেবি এন্টারপ্রাইজ, এবি ইন্টারন্যাশনাল, বাবস বাংলাদেশ, জনতা ফিশ ও বায়োনিক সি ফুড।

মত্স্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশের চাহিদা বিবেচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময়ে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ রাখে। ২০১২ সালের আগে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। গত বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যেও ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

জনতা ফিশের স্থানীয় প্রতিনিধি জানান, মহিপুর, পাথরঘাটা, চরদুয়ানী, কুয়াকাটা ও ভোলা থেকে প্রতিদিন ভোরে ইলিশ আসছে। তবে বলেশ্বরের ইলিশ এখনো আসেনি। এক কেজি সাইজের ইলিশের আমদানি এবার অনেক কম। ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের আমদানিই বেশি।

তিনি বলেন, ইলিশ ক্রয়ে আমদানিকারকেরা অসম প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কেউ ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৯০০ টাকা দরে আবার কেউ ৮৫০ টাকা দরে কিনছে। রূপসা পাইকারি মাছের আড়ত থেকে রপ্তানিকারকদের প্রতিনিধিরা একই সাইজ ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৮৪০ টাকা দরেও কিনছে।

বিএফডিসির মত্স্য অবতরণ কেন্দ্র খুলনার ব্যবস্থাপক মো. রাসেল সিকদার জানান, এই অঞ্চল থেকে ২২টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইলিশ কিনছে। প্রত্যেকেই ৪০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। তিনি জানান, খুলনার মোকাম থেকে গত ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩২ টন ইলিশ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশে করেছে। গত বছর এই মোকাম থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ৩২৫ মেট্রিক টন পশ্চিমবঙ্গে রপ্তানি হয়।

ইলিশ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান অর্পিতা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক বিশুদানন্দ আচার্জি জানান, এবার ভারতে ৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি হবে। পশ্চিমবঙ্গে প্রতি কেজি ইলিশের রপ্তানিমূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৫০ টাকা। ভারত ও বাংলাদেশের কাস্টমস থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলিশের এই চালান ছাড় করা হচ্ছে।

বেনাপোল কাস্টমসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ইলিশ রপ্তানির তৃতীয় চালান মোংলা বন্দর দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গেছে। প্রতিদিন ট্রাকবোঝাই ইলিশ পশ্চিমবঙ্গে ঢুকছে। দ্রুত রপ্তানির জন্য কাস্টমসের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তালিয়া ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।