বাংলা পাঠ্যবইয়ের কবি, লেখকদের ছবি ও তাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে কালিয়াপাড়া ডাকাতিয়া মাজেদা মজিদ উচ্চ বিদ্যালয় সখিপুর টাঙ্গাইলের সহকারী শিক্ষক শাহানারা আক্তার হ্যাপি গড়ে তুলেছেন তার স্কুলে কবি গ্যালারী। শিক্ষার্থীদের দিয়ে লিখিয়ে দেয়ালে টানিয়ে দেয়া হয় তাঁদের বৃত্তান্ত। তারপর একমাস পর দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি প্রতিযোগীতার আয়োজন করেন । তিনজন কবির নাম আগের দিন বলে দেয়া হয়। প্রথম তিনজনকে পুরস্কার দেয়া হয়। প্রথম স্থান অধিকারীর লেখা প্রকাশ করা হলো।
জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা সারদাসুন্দরী দেবী। রবীন্দ্রনাথ পিতামাতার চতুর্দশ সন্তান। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার ছিল ব্রাহ্মধর্ম মতবাদের প্রবক্তা। রবীন্দ্রনাথের পূর্ব পুরুষেরা খুলনা জেলার রূপসা উপজেলা পিঠাভোগে বাস করতেন। কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্মাাল স্কুলে কিছুদিন পড়াশোনা করেন তিনি। বিদ্যালয়-শিক্ষায় অনাগ্রহের জন্য বাড়িতেই গৃহশিক্ষক রেখে তাঁর শিক্ষা লাভের ব্যবস্থা করা হয়।
১৮৭৮ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে যান । ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর ঠাকুরবাড়ির অধস্তন কর্মচারী বেণীমাধব রায়চৌধুরীর কন্যা ভবতারিণীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের বিবাহ হয়। বিবাহিত জীবনে ভবতারিণীর নামকরণ করা হয় মৃণালিনী দেবী, রবীন্দ্রনাথ ও মৃণালিনীর সন্তান ছিলেন পাঁচ জন: মাধুরীলতা রথীন্দ্রনাথ রেণুকামীরা এবং শমীন্দ্রনাথ এঁদের মধ্যে অতি অল্প বয়সেই রেণুকা ও শমীন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়। ১৮৯০ সালে রবীন্দ্রনাথের অপর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ মানসী প্রকাশিত হয়।
১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ সপরিবারে শিলাইদহ ছেড়ে চলে আসেন বীরভূম জেলায়। এখানে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৮৮ সালে একটি আশ্রম ও ১৮৯১ সালে একটি ব্রহ্মমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। আশ্রমের আম্রকুঞ্জ উদ্যানে একটি গ্রন্থাগার নিয়ে রবীন্দ্রনাথ চালু করলেন ‘ব্রহ্মবিদ্যালয়’ বা ‘ব্রহ্মচর্যাশ’ একটি পরীক্ষামূলক স্কুল।
১৯০২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে কবিপত্নী মৃণালিনী দেবী মারা যান। ১৯০৫ সালে রবীন্দ্রনাথ বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ১৯১০ সালে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলি প্রকাশিত হয়। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য নোবেল পুরস্কার পান। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘স্যার’ উপাধিতে (নাইটহুড) ভূষিত করেন।
জীবনের শেষ দিকে রবীন্দ্রনাথের মোট পঞ্চাশটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। পুনশ্চ, শ্যামলী ও পত্রপুট এই গদ্যকবিতা সংকলন তিনটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শেষ চার বছর ছিল তাঁর ধারাবাহিক শারীরিক অসুস্থতার সময়। এই সময়ের মধ্যে দুইবার অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় থাকতে হয়। ১৯৩৭ সালে একবার অসুস্থ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থা ছিলেন। ১৯৪০ সালে অসুস্থ হওয়ার পর আর তিনি সেরে উঠতে পারেননি। এই সময় পর্বে রচিত রবীন্দ্রনাথের কবিতাগুলি ছিল মৃত্যুচেতনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কিছু অবিস্মরণীয় পঙক্তিমালা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন সৃষ্টিশীল । রোগভোগের পর ১৯৪১ সালে জোড়াসাঁকোর বাসভবনেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
শেখ শাহীন, শিক্ষার্থী. দশম শ্রেণি
কালিয়াপাড়া ডাকাতিয়া মাজেদা মজিদ উচ্চ বিদ্যালয়, টাঙ্গাইল।
