ইত্তেফাক রিপোর্ট
খামারিদের রক্ষার্থে ‘সয়াবিন মিল’ রপ্তানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএফএ)। পাশাপাশি বিদেশ থেকে প্যাকেটজাত ফ্রোজেন মাংস আমদানি বন্ধ, খামারিদের বিদ্যুত্ বিল কৃষি খাতের আওতাভুক্ত, তরল দুধের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতসহ পশুখাদ্যের দাম কমানোর লক্ষ্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) আওতায় সরবারহ করে দেশে দুধ ও মাংসশিল্পের উন্নয়নের আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এ সময় বক্তব্য দেন বিডিএফএর সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন, সহসভাপতি আলী আজম রহমান শিবলী, সাধারণ সম্পাদক শাহ এমরানসহ দেশের খামার মালিক সমিতির অনেকে।
লিখিত বক্তব্যে ইমরান হোসেন বলেন, সয়াবিন মিল রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার—এমন খবরে স্থানীয় সয়াবিন মিল উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সয়াবিন মিলের দাম কেজি প্রতি ১০-১২ টাকা বাড়িয়ে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় সয়াবিন মিল রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা দ্রুত দেওয়া দরকার। এটি বন্ধ না হলে দেশের পোলট্রি ও মত্স্যসহ প্রাণিসম্পদ খাতে খাদ্যের দাম বেড়ে যাবে। খামারিরা বড় ধরনের লোকসানে পড়বেন। তিনি বলেন, পোলট্রি ও গবাদিপশু উত্পাদনে প্রধান হলো খাদ্য খরচ। এগুলোর মধ্যে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিদেশ থেকে প্রাণিজ খাদ্য উপকরণ মিট অ্যান্ড বোন মিল বন্ধ থাকায় সয়াবিন মিলের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। দেশের সয়াবিন মিল উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সয়াবিন শুল্কমুক্তভাবে (শূন্য) আমদানি করে সয়াবিন তৈল উত্পাদন করে এবং বাই প্রোডাক্টস হিসেবে সয়াবিন মিল দেশীয় বাজারে বিক্রি করে।
আমাদের দেশে সয়াবিন মিলের মোট চাহিদা বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ দেশীয় সয়াবিন তৈল উত্পাদকারী প্রতিষ্ঠান থেকে এবং অবশিষ্ট ২০ থেকে ২৫ শতাংশ আমদানি করা হয়।
অন্যদিকে, খরচের বিপরীতে পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়তে হবে খামারিদের। দেশের মানুষের স্বার্থে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা সেই সয়াবিন সিড থেকে উত্পাদিত সয়াবিন মিলই এখন তিন থেকে চারটি সয়াবিন তৈল উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান মুনাফার স্বার্থে রপ্তানি করছে।
