বাঙালি জাতির ‘মুকুট মণি’ শেখ হাসিনা

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:০৩

উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র শেখ হাসিনা। একজন সংগ্রামী রাজনৈতিক নেত্রী, একজন সাহসী যোদ্ধা, বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক, সামাজিক মুক্তির আলোকবর্তিকা, একজন মমতাময়ী মানবিক নেত্রীর নাম শেখ হাসিনা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গর্বিত সন্তান। বঞ্চিত বাঙালির একমাত্র আশ্রয়স্থল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পতাকাবাহী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সর্বজনমান্য নেত্রীর জন্মদিন আজ। বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবনের ৭৪টি ঝোড়ো বসন্ত পেরিয়ে আজ ৭৫-এ পা দিলেন তিনি।

ছাত্রজীবন থেকে পিতার হাত ধরে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর স্বৈরশাসনে বঙ্গবন্ধুকে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছিল। মায়ের সঙ্গে জেলখানায় পিতাকে দেখতে যেতে যেতে এক কঠিন সংগ্রামী ও দৃঢ়চেতা হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ১৯৭৫-এ কলঙ্কজনক ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাক্রমে দেশের বাইরে থাকায় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু মৃত্যুযন্ত্রণার চেয়েও দুঃসহ যন্ত্রণা ও কষ্ট নিয়ে গত চারটি দশক তাঁকে ‘জীবন জয়ের’ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয়েছে। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে সামরিক শাসক জিয়া ক্ষমতা দখল করে ইনডেমনিটি আইন করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ বন্ধ করার পাশাপাশি খুনিদের পুরস্কৃত করেছিলেন। জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর  দমনপীড়ন, জেল-জুলুম, হত্যা করার পাশাপাশি দলকে ভেঙে খণ্ডবিখণ্ড করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাকে পদদলিত করে পাকিস্তানি ভাবধারায় দেশ পরিচালনা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে দলের দায়িত্বভার গ্রহণের পরই শেখ হাসিনার ৪১ বছরের ক্লান্তিহীন পথযাত্রা। এই যাত্রাপথ কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। গত ৪১ বছরে কমপক্ষে ২০ বার তাঁকে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়েছে। এরশাদের স্বৈরশাসনের আমল থেকে শুরু করে সর্বশেষ ১/১১ সরকারের আমলে বেশ কয়েক বার তাঁকে কারাবরণ এবং দীর্ঘ কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়। মোকাবিলা করতে হয় অসংখ্য মিথ্যা মামলা ও হয়রানির। কিন্তু কিছুই তাঁকে দমাতে পারেনি। অশুভ শক্তির সব ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবিলা করেই তিনি লক্ষ্যের দিকে অবিচল পদক্ষেপে এগিয়ে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই এরশাদ স্বৈরাচারের পতন হয়েছিল। পরবর্তীকালে বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃশাসন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অবিমৃশ্যকারী কাণ্ডকারখানা থেকে তিনি বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধার করেন। এই সময়ের মধ্যে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার পাশাপাশি জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করে দেশে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি চালু করে আইনের শাসন বন্ধ করেছিলেন, তা থেকে জাতিকে মুক্ত করেন।

দলীয় প্রধান হিসাবে এই দীর্ঘ সময় চলার পথে অনেক চড়াই-উতরাই, ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে তিনি আওয়ামী লীগকে আজকের এই অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর সফল নেতৃত্বের কারণেই আওয়ামী লীগ চার বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের এই শাসন আমলেই দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের নতুন মাত্রা সূচিত হয়েছে। তিনি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সব শ্রেণিপেশার মানুষের কল্যাণে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছেন। দরিদ্র দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছেন। ‘রূপকল্প ২০২১’-এর মাধ্যমে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশকে ‘রূপকল্প ২০৪১’-এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত, আধুনিক, সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক কল্যাণকামী রাষ্ট্রগঠনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বস্তুত দারিদ্র্য হ্রাস, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ প্রভৃতি কারণেই বাংলাদেশ বিশ্ব পরিমণ্ডলে স্বাতন্ত্র্য অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। সর্বোপরি লাখ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে বাংলাদেশে আশ্রয় দান এবং সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ বিশ্বমহলে প্রশংসিত হয়ে আসছে। শেখ হাসিনা নিজে যেমন স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য যা যা করণীয় সবই তিনি করছেন।

বাংলাদেশ এবং এর নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা বিশ্ব পরিমণ্ডলে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন। তিনি নানা আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক জোট এবং সহযোগিতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ অব্যাহত রেখেছেন। তাঁর বিভিন্ন সাফল্য এবং বিচক্ষণতার জন্য বারবার আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০টা আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ বরাবরই সফলতার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা জাতিসংঘের এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার অর্জন করেছে ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ তারিখে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ক্রাউন জুয়েল’ বা ‘মুকুট মণি’ আখ্যায়িত করেছে আর্থ ইনস্টিটিউট, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গ্লোবাল মাস্টার্স অব ডেভেলপমেন্ট প্র্যাকটিস এবং ইউএন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশনস নেটওয়ার্ক। সত্যিকার অর্থেই শেখ হাসিনা আজ বাঙালি জাতির ‘মুকুট মণি’।

পিতার মতো বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাও রাজনীতিকে গ্রহণ করেছেন সেবা ও ত্যাগের আদর্শ হিসেবে। তাঁর সত্, যোগ্য, দক্ষ ও দৃঢ় নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সংগ্রাম, সাফল্য আর বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী জীবন্ত কিংবদন্তি জননেত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘজীবী হোন। বাঙালি জাতিকে আরো দীর্ঘদিন উন্নত, সমৃদ্ধ জীবন গড়ার কর্মযজ্ঞে নেতৃত্ব দিন, সুস্থ থাকুন—৭৫ বছরে পদার্পণের মাহেন্দ্রক্ষণে এটাই আমাদের প্রত্যাশা, জাতির প্রত্যাশা।

জয়তু শেখ হাসিনা, শুভ জন্মদিন।

n লেখক :যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ