সৈয়দপুরে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:০৯

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

সৈয়দপুরে গত কয়েক দিন ধরে ভ্যাপসা গরম ও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে শহর ও গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। রিকশাচালক, ভ্যানচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গরম সহ্য করতে না পেরে ছিন্নমূল মানুষ গাছের তলায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। অসহ্য রোদের তাপে ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না চাষাবাদে নিয়োজিত কৃষিশ্রমিকেরা। সৈয়দপুর শহরে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ফুটপাত থেকে আখের রস, লেবুর শরবত ইত্যাদি খেয়ে তৃষ্ণা মেটাতে দেখা যায় অনেককে। শহরের রিকশাচালক আবুল হোসেন জানান, আশ্বিন মাসে এমন কড়া রোদে রিকশা চালানো কষ্ট হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাঘাটে মানুষ কম চলাচল করছে। অনেকে প্রয়োজন ছাড়া বাসাবাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। তাই গত কয়েক দিন থেকে সন্ধ্যার দিকে রিকশা নিয়ে বের হন তিনি।

সৈয়দপুরের নতুন বাবুপাড়ার আহমেদা ইয়াসমিন ইলা নামে এক গৃহবধূ জানান, গরমের মাঝে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। বিশেষ করে ছেলেমেয়েরা এই সময়ে ফ্যানের বাতাস না পেয়ে অস্বস্তিতে ভোগে। তিনি জানান, প্রতিটি বাসায় এখন জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গরমে সেই সব রোগী নিয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ লোকমান হোসেন জানান, গত কয়েক দিন ধনে এই অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৪-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। আগামী দুই-তনি দিন এই অবস্থা বিরাজ করবে বলে জানান তিনি। এর পরে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু মো. আলেমুল বাসার জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে গরমে রোগবালাই থেকে বাঁচতে রাস্তার পাশে খোলা খাবার এবং অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। শেষ রাতের ঠান্ডায় ফ্যান কিংবা এসি না চালানো ভালো। প্রচুর পানি ও স্যালাইন খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।