বিমানবন্দরে বসানো পিসিআর ল্যাব নিয়ে অনিশ্চয়তা

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:১৮

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর ল্যাব বসানো নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপনের অনুমতি দিয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠান ল্যাব বসানোর কাজ সম্পন্ন করলেও শেষ মুহূর্তে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়ার পক্ষে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। বাকি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে আনছার দিয়ে উঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন,                 আমরা অসহায়, কিছুই করতে পারছি না। কেন পরিপূর্ণভাবে বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপন করতে দেওয়া হচ্ছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়। তাদের আসল উদ্দেশ্য কী? এটা কী বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্র?

গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চিঠি দিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমানকে জানিয়ে দিয়েছে যে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী যাত্রীদের জন্য স্থাপিত কোভিড-১৯ আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগারটি পরীক্ষা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে কোভিড-১৯ আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপন সম্পর্কিত টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এটা জানানো হয়।  পিসিআর ল্যাব স্থাপনে অনুমোদন পাওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলেন, পিসিআর ল্যাব বসানোর ক্ষেত্রে শুরু থেকে অসহযোগিতা করে আসছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার জন্য কাজ করছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আবুধাবি থেকে নতুন যে নির্দেশনা এসেছে তা নিয়েও চলছে ষড়যন্ত্র। নির্দেশনার আসার বিষয়ে ‘একটি প্রতিষ্ঠানকে ছাড়া’ কাউকে কিছু জানায়নি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। নির্দেশনার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দূরের কথা এমনকি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও কিছু জানে না। কিন্তু বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ হঠাত্ করে নতুন এই নির্দেশনার কথা জানায়। অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, নতুন এই নির্দেশনা ১৪ তারিখ আসলেও আমাদের ১৬ তারিখ জানানো হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু মেশিন এবং একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্ল্যান বা এসওপি জমা দিতে বলা হয়। শেষ পর্যন্ত সব শর্ত পূরণ করলেও একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব প্রতিষ্ঠানকে উঠিয়ে দিতে চায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।