রাজধানীর চকবাজার থানাধীন চাঁনখারপুল এলাকার একটি বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম মাসুদ আল মাহদি অপু (২৮)। গতকাল সোমবার ঐ এলাকার নাজিমুদ্দিন রোডের ৯০/৯১ নম্বর ‘স্বপ্ন’ নামে একটি ভবনের অষ্টম তলার একটি কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ফ্লোরে হাটু ভাঁজ হওয়া অবস্থায় থাকায় এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে পুলিশ বলছে, আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন অপু।
জানা গেছে, অপু ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং দৈনিক ইত্তেফাকের স্পোর্টস বিভাগে কিছুদিন সাব-এডিটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাস্টার্স পাশ করে বিভিন্ন জায়গায় চাকরি খুঁজছিলেন তিনি। ৪১তম বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিতে পাশও করেন এবং লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ গ্রামের অপুর বাবার নাম হুমায়ুন কবির। দুই ভাইয়ের মধ্যে অপু ছিলেন বড়। তার ছোট ভাই ফয়সালও ঢাকাতেই থাকেন। অপু যে কক্ষে থাকতেন, সেখানে আল ইমরান ও জহিরুল ইসলাম নামের আরো দুজন থাকেন।
রুমমেট জহিরুল ইসলাম জানান, ‘সকাল ৯টার দিকে আমি যখন আমার কর্মস্থলে যাই, সে সময় অপু ঘুমিয়ে ছিলেন। দুপুরে লাঞ্চ করতে রুমে এলে দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে বারবার কল দিই, কিন্তু ফোন রিসিভ করেনি। রুমের দরজায় বারবার ধাক্কা দিয়েও সাড়া মেলেনি। এরপর অন্যদের ডাকি। দরজার ফাঁক দিয়ে হাত দেখতে পাই। পরে দরজা ভেঙে দেখি উনি ফ্যানের সঙ্গে গামছা দিয়ে ফাঁস দিয়েছেন।’ অপুর সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ ছিল কি না, জানতে চাইলে জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘উনি আমাদের সিনিয়র ভাই? সব সময় পড়াশোনা করতেন। রবিবার রাতেও বিসিআইসির ভাইভার জন্য কাগজপত্র গোছাচ্ছিলেন। ৪১তম বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিতে পাশও করেছেন এবং লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।’
আরেক রুমমেট আল ইমরান বলেন, ‘৮-১০ জন মিলে রুমের দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেঙে দেখি উনি (অপু) গলায় ফাঁস দিয়েছেন। দরজা ভাঙার বিষয়টা আমরা ভিডিও করেছি। কারণ দরজার ফাঁক দিয়ে অপু ভাইয়ের হাত দেখা যাচ্ছিল, এতে আমরা বুঝে নিই কিছু একটা ঝামেলা হয়েছে।’ পাশের রুমের সহপাঠী ও সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাইদ বলেন, অপু বেশ কিছুদিন ধরে আর্থিক সমস্যায় ছিলেন। তার কাছ থেকেও মাঝেমধ্যে টাকা ধার নিতেন। তবে হঠাত্ করেই কেন আত্মহত্যা করেছেন তা বুঝতে পারছেন না বলে জানান।
অপুর চাচা খলিলুর রহমান বলেন, ‘তিন মাস আগে অপু নাজিমউদ্দিন রোডের ঐ মেসে ওঠে। এর আগে মালিবাগ মোড়ে থাকত। কী কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে বা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সে বিষয়ে কিছু বুঝতে পারছি না। কোনো মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল কি না, তা-ও জানি না।’
চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কবির উদ্দিন মণ্ডল জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, অপু আত্মহত্যা করেছেন। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
