সকালে সাধারণত ফার্মগেট থেকে বাসে উঠলে সিট পাওয়া যায় না। ছেলেটি লাইনের সামনের দিকে ছিল। বাসে উঠে দেখতে পেল দুটো সারি পরেই একটি মেয়ে বসে আছে, তার পাশের সিটটি খালি। মেয়েটি সুশ্রী, মার্জিত এবং চেহারার মধ্যে একটা সম্ভ্রান্ত সম্ভ্রান্ত ভাব আছে। ছেলেটি বিনীতভাবে বলল, বসতে পারি?
মেয়েটি তাকাল: বেশ স্মার্ট এবং হ্যান্ডসাম একটি ছেলে, তবে হ্যাংলা মনে হয় না। বয়স ওর চেয়ে দু-তিন বছরের বড় অর্থাত্ পঁচিশ-ছাব্বিশ হতে পারে; মেয়েটি স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল, বসুন।
বাস চলতে শুরু করেছে। সহজ হওয়ার জন্য ছেলেটি বলল, খুব গরম পড়েছে।
হ্যাঁ বৃষ্টি হচ্ছে তবু গরম কাটছে না।
কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর ছেলেটি বলল, কতদূর যাবেন আপনি?
উত্তরা। আপনি?
আমিও তো উত্তরা। কয়েকদিন হলো একটা ব্যাংকে জয়েন করেছি, জীবনের প্রথম চাকরি। তবে বাসে ধকল যায় খুব, ভাবছি একটা বাইক কিনব। উত্তরায় কোথায় যাচ্ছেন আপনি?
বারো নম্বর সেক্টর। আমার বড় বোনের বাসায়। ভার্সিটির পরীক্ষা শেষ। কয়েকদিন থাকব বোনের বাসায়।
গল্প চলতে থাকে বনানী পর্যন্ত। এক পর্যায়ে মেয়েটি বলে, আপনার পারফিউমের গন্ধটা তো দারুণ, অবশ্যই খুব দামি ব্র্যান্ডের?
‘কিউবা’। বেশি দামি নয়, তবে আমার পছন্দের।
ছেলেটির সেল ফোন বেজে ওঠে। ও প্রান্তের কণ্ঠ শোনার পর ছেলেটি গলা নামিয়ে কথা বলতে থাকে:...আমি ভালো আছি, তুমি ভালো তো? আচ্ছা একদিন দেখা না হলে কী হয়! বিশ্বাস কর, কাল আমি এত ক্লান্ত ছিলাম যে, অফিস থেকে ফিরে খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েছি। ঠিক আছে, আমার ভুল হয়েছে, স্যরি ম্যাডাম, স্যরি। আজ রাতে অবশ্যই দেখা হচ্ছে। ...আমিও...খুব খুব খুব.. দিলাম।
কার ফোন? মেয়েটি প্রশ্ন করে।
আমার বন্ধু, এখন অবশ্য ফিয়ানসে, নেক্সট ইয়ারে বিয়ে করছি আমরা।
একটু পর সামনের একটা সিট খালি হয়। মেয়েটি বলে, প্লিজ, আপনি ঐ সিটটায় গিয়ে বসুন না!
ছেলেটি অবাক হয়, কেন?
না মানে আপনার পারফিউমের গন্ধটা আমার ঠিক সহ্য হচ্ছে না।
কী বলেন? কিছুক্ষণ আগে না বললেন, পারফিউমের গন্ধটা দারুণ!
বলেছিলাম নাকি! কিন্তু এখন আমার একটুও সহ্য হচ্ছে না গন্ধটা। আপনি প্লিজ...
