>> তাসনিমুল হাসান উদয়
বিখ্যাত আলোকচিত্রী ব্রুনো বারবে বলেছেন, ‘ফটোগ্রাফিই একমাত্র ভাষা যা পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তেই সমানভাবে বোধগম্য।’ আর সেই ভাষা দিয়েই দেশের এক তরুণ বিশ্বেমঞ্চে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করেছেন সেরাদের সেরা হয়ে। তরুণ আলোকচিত্রশিল্পী জাহিদ আলম অপু। ইউনেস্কো আয়োজিত ‘ইয়ুথ আইস অন সিল্ক রোড’ শীর্ষক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। সিল্ক রোড মূলত ঐতিহাসিকভাবে পূর্ব ও পশ্চিম এশিয়া, ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলকে যুক্তকারী বাণিজ্যিক পথ। এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রাকে তুলে ধরার লক্ষ্যেই ইউনেস্কো বিগত কয়েক বছর ধরে আয়োজন করে আসছে এই প্রতিযোগিতার। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে একজন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করতে পারেন, তবে ছবির মূল বিষয়বস্তু হতে হয় সিল্ক রোডের ওপর ভিত্তি করে এবং নির্দিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। এ বছর দুটি ভিন্ন ভিন্ন বয়সভিত্তিক বিভাগে এবং দুটি আলাদা আলাদা বিষয়ের ওপর অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক এই ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতাটি।
‘টেক্সটাইল অ্যান্ড ক্লথিং’ বিভাগে দেশের হয়ে এই গৌরব বয়ে এনেছেন জাহিদ। প্রাথমিকভাবে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ছবির মধ্য থেকে বেশ কয়েকটি ধাপ পার হয়ে তার তোলা ছবিটি সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়। ‘লাইফ ইন ফ্যাব্রিক—দ্য সারভাইভার’ শিরোনামে তার তোলা ছবিটি বিচারকদের মন জয় করে নেয়। উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতার জুনিয়র বিভাগেও বাংলাদেশ থেকে ১৭ বছর বয়সী এস. এম. আল মুজতাবা প্রথম স্থান অধিকার করেন।
দৈনিক ইত্তেফাককে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের নামের সঙ্গে বাংলাদেশের নামটা দেখতে পারা সত্যিই গর্বের ব্যাপার। এটা নিজের ও পরিবারের জন্য অনেক বড় পাওয়া। এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হয় না।’ তার মতে, আমাদের দেশের তরুণ আলোকচিত্রশিল্পীরা আগের চেয়ে এখন অনেক পরিণত। পৃষ্ঠপোষকতা আর উত্সাহ পেলে তরুণরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করেন তিনি। তিনি তরুণ প্রজন্মের আলোকচিত্রশিল্পীদের নিয়ে কাজ করতে চান। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করা এবং ভালো করার জন্য তিনি তরুণদের ছবি তোলার পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতার ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘নতুনদের মধ্যে সবসময়ই একটা ধারণা থাকে যে ছবি তুলতে ভালো ক্যামেরা আর দামি লেন্স থাকতে হবে। কিন্তু আসলে আমাদের পকেটে থাকা মুঠোফোন দিয়েই এখন অনেক ভালো ছবি তোলা যায়। তবে নতুনদের স্টোরি টেলিং বা গল্প বলার ওপর জোর দেওয়া উচিত বলে মনে করি। দিনশেষে নিজের ভেতরকার শিল্পবোধের উপলব্ধিটাই একজন ভালো আলোকচিত্রশিল্পী হয়ে উঠতে সাহায্য করে।’
জাহিদ এ বছরই হংকংয়ের ‘গামপ আন্তর্জাতিক ফটো কনটেস্ট’-এ রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। কমিপউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনা করলেও আগামীতে আলোকচিত্রী হিসেবে নিজের পেশাগত জীবন শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। ভবিষ্যতে ভিজ্যুয়াল ফটো জার্নালিজম নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে এই তরুণের।

