স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়া শহরের উত্তর অংশে একটি সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যেমন বাড়িয়েছে তেমনি এলাকার দুই শতাধিক ব্যবসায়ী ব্যবসা করতে না পেরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির কোনো সুরাহা হচ্ছে না। দত্তবাড়ী ও কালিতলা এলাকার ব্যবসায়ীসহ সাধারণ বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দত্তবাড়ী এলাকায় বনানী-মাটিডালি প্রধান সড়ক এবং দত্তবাড়ী নামাজগড় শাখা সড়কে দিনভর যানজটে শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতিই হচ্ছে না অগ্নিকাণ্ড বা চিকিত্সার প্রয়োজনে তাদের এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্সও সময় মতো পৌঁছতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এলাকার কয়েকশ বাসিন্দা গত ২২ সেপ্টেম্বর বগুড়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পৌর মেয়রের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। দত্তবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী বজলুর রশিদ লাবলু জানান, তার কয়েকটি ভবনে সরকারি একটি ব্যাংক এবং বেসরকারি দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ভাড়া ছিল। আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভাড়া নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু ভবনের নিচে রাত-দিন সিএনজি অটোরিকশার যানজট লেগে থাকায় সরকারি একটি ব্যাংক ছাড়া অন্যসব প্রতিষ্ঠান ভাড়ার চুক্তি বাতিল করে চলে গেছে। তিনি বলেন, আগে প্রতি মাসে ৪ লাখ টাকা ভাড়া পেতাম। এখন পাচ্ছি ২৫ হাজার টাকা। যা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কাটনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওয়াহিদ মুরাদ বলেন, তার ভবনে এক সময় দেশের নামি ফার্নিচার প্রতিষ্ঠানের শো-রুম ছিল। কিন্তু দত্তবাড়ীতে রাস্তার ওপর সিএনজি অটোরিকশা রাখার কারণে সারা দিনই যানজট লেগে থাকে। এ কারণে কোনো ক্রেতাই এদিকে আসতে চান না। তাই ঐ প্রতিষ্ঠান চলে গেছে। এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে, তাদের পক্ষে পৌরসভার পৌরট্যাক্স দেওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কাটনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা বগুড়ার প্রবীণ কবি বজলুল করিম বাহার বলেন, পাড়ার মধ্যে সারা দিন দাঁড়িয়ে থাকা শত শত সিএনজির কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।
দত্তবাড়ী বণিক সমিতির সহসভাপতি মিজানুর রহমান রকেট বলেন, অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের কারণে একেবারেই ব্যবসা করতে পারছি না। ইতিমধ্যে দেড় শতাধিক দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। প্রশাসনের কাছে স্ট্যান্ডটি সরানোর জন্য আবেদন করেছি। এতে যদি কাজ না হয় তাহলে আগামীতে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে। বগুড়া জেলা সিএনজি চালিত অটো রিকশা-বেবিট্যাক্সি-টেম্পো মালিক সমিতি দত্তবাড়ী এলাকার সভাপতি একরামুল করিম মিঠু বলেন, শুধু সিএনজি অটোরিকশা নয়, ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণেও যানজট হচ্ছে। যদি অটোরিকশা রাখার আলাদা জায়গা রয়েছে, তারপরও কর্তৃপক্ষ অন্য কোথাও যেতে বললে আমরা সেখানে যাব।
বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক বলেন, এলাকাবাসী যে দাবি তুলেছে তা ন্যায়সঙ্গত। বিষয়টি দেখব। বগুড়া পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি খুবই গুরত্বপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা বলেন, তিনি বিষয়টি এরই মধ্যে জেলার আইনশৃঙ্খলার সভায় তুলেছেন।
